Paran Frooto
advertisement
Paran Frooto
advertisement
advertisement

সেমিফাইনালে যেতে হলে যা করতে হবে টাইগারদের

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ
১১ জুন ২০১৯ ২২:১৩ | আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ০০:৫৬
advertisement

‘মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে, একঘেয়ে কান্নার সুরের মতো সে শব্দ।’ প্রয়াত ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের এই উক্তিটি হয়তো স্মরণ করছেন মাশরাফী-সাকিবরা। বৃষ্টি যে সবসময় রোমান্টিসিজম নিয়ে আসে না, মাঝে মাঝে কান্নার সুরের মতো হয়েও আসে তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

কিন্তু প্রকৃতির লিলাখেলার কাছে চোখের পানি ফেলেও লাভ নেই। হতাশা প্রকাশ করে মনের ঝাল মেটানো ছাড়া কোনো উপায়ও নেই। চলতি বিশ্বকাপে ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর একরাশ হতাশাই প্রকাশ করেছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

বাংলাদেশ দলের কাপ্তান বলেন, ‘মাঠে আসার পর খেলতে না পারা সব দলের জন্যই হতাশা আর আক্ষেপের। এভাবেই টুর্নামেন্ট এগিয়ে যাচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা জয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম, ইংল্যান্ড ম্যাচে অবশ্য পাইনি। কিন্তু আজকের দিনটা ছিল হতাশাজনক।’

কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়াতে কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের। লঙ্কানদের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় তাদের সঙ্গে দুই পয়েন্ট ভেবেই রেখেছিল টাইগাররা। কিন্তু বৃষ্টি বাংলাদেশের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিল। এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তামিম-সাকিবদের। মাশরাফী মূলত এইজন্যই হতাশা প্রকাশ করছেন বারবার।

এতে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথও কিছুটা রুদ্ধ হয়ে গেছে টাইগারদের। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের শেষ চারে যেতে টাইগারদের প্রয়োজন ১০ (সম্ভাব্য) পয়েন্ট। আর চার ম্যাচ শেষে টাইগারদের পয়েন্ট এখন তিন। পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান সাত নম্বরে। এখনো খেলা বাকি অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের সঙ্গে। তার মানে সেমিতে যেতে হলে এই পাঁচ দল থেকে চারটাকেই হারাতে হবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন হয় বিশ্বকাপে পা দেওয়ার ঠিক আগেই। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে কাজে লাগতে পারে এই ম্যাচের অনুপ্রেরণা। তবে এখন মঞ্চ, প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গেইল-রাসেল যোগ দেওয়াতে দল আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবুও মাঠে সেরাটা দিতে পারলে তাদের হারানোও সম্ভব। উইন্ডিজদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফর্মেন্স সাকিবদের পক্ষেই।

আফগানিস্তান থেকে দুই পয়েন্টের আশা করতেই পারে বাংলাদেশ। শক্তি-সামর্থ্য সব মিলিয়ে আফগানদের থেকে টাইগাররা অনেক এগিয়ে। এই বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের পারফর্মেন্সও ভালো নয় খুব। পাকিস্তানের সঙ্গে যদি বাংলাদেশ সেরাটা খেলে জয় আসা অসম্ভব কিছু নয়। এশিয়া কাপে সরফরাজদের হারিয়েই বাংলাদেশ ফাইনাল খেলে।

পাকিস্তান এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারালেও প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজের কাছে নাকানি চুবানি খেয়েছে। আনপ্রেডিক্টেবল তকমা পাওয়া পাকিস্তানের কাছ থেকেও দুই পয়েন্ট আশা করতে পারেন সাকিব-তামিমরা। এ ছাড়া বাকি রইল ভারত-অস্ট্রেলিয়া। এই দুই দল থেকে দুই পয়েন্ট করে পাওয়ার আশা করা খুবই কঠিন, তবে অবাস্তবও কছু নয়।

এ ছাড়া যদি ভারত-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় তাহলে বাংলাদেশ এক পয়েন্ট পাবে। সেক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে হারাতে পারলে সেমিতে যাওয়াও সম্ভব। এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে স্ট্যাটাসও দিয়ে দিচ্ছেন প্রার্থনা করে, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে যাতে বৃষ্টি আসে।

শেষ করি সাকিব আল হাসানের একটা কথা দিয়ে। এই বিশ্বকাপে ফেবারিট দল নিয়ে সাকিব বলেছিলেন মাঠে যে সেরাটা খেলাটা খেলতে পারবে তারাই ফেবারিট। অর্থাৎ কাগজে কলমে ফেবারিট দল হয়ে কোনো লাভ নেই, মাঠেই সেরাটা খেলে জয় নিয়ে আসতে হবে। মাশরাফীদের উচিৎ এখন কী হলে কী হতো না ভেবে নিজেদের সেরাটা দিয়েই খেলা প্রত্যেকটি ম্যাচ। 

advertisement