advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লাওসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ

মামুন হোসেন
১২ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ০৯:২৭

২০২২ কাতার বিশ^কাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে লাওসের বিপক্ষে কমপক্ষে ড্র প্রয়োজন ছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে লাওসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে জেমি ডের দল। প্রথম লেগে লাওসের মাঠ ভিয়েনতিয়েনে রবিউল হাসানের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল।

অ্যাওয়ে ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। দুই লেগ মিলে ফল বাংলাদেশ ১-০ লাওস। লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ দেখতে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে পূর্ণ। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ অবধি জামাল ভূঁইয়ার দলকে গলা ফাটিয়ে সমর্থন দিয়ে গেছেন তারা। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করলেও দর্শকমন ভরাতে পারেননি রবিউল, ইব্রাহিম, জীবনরা। একের পর এক গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে। এমনকি ওপেন নেটেও। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিপক্ষ দলও।

advertisement

তবে লাওসের সেসব আক্রমণ কখনো রক্ষণে আবার কখনো গোলরক্ষক আশরাফুল রানা রুখে দিয়েছেন। এপ্রিলে বাছাইপর্বের ড্র নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই লাওস বধের ছক কষছিলেন বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে। সেই পরিকল্পনায় শতভাগ সফল তিনি। ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করলেও দুই লেগের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে জামাল, সোহেল, রবিউলরা সফল। তাই তো ম্যাচ শেষে তৃপ্তির হাসি জেমির মুখে। কণ্ঠে শিষ্যদের জয়গান।

র‌্যাংকিং, শক্তি-সামর্থ্য- সব দিক থেকে এগিয়ে লাওস। এমন একটি দলকে বিদায় করে কাতার বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে এখন বাংলাদেশ। ধুঁকতে থাকা ফুটবলে বিশাল এক প্রাপ্তি। কাতার বিশ^কাপ বাছাইপর্বে এশিয়া অঞ্চলের প্রথম রাউন্ডের বৈতরণী পার হয়েছে বাংলাদেশ। তবে পথ অতটা সহজ ছিল না। কঠিন এবং বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে জেমির দলকে। লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে থাইল্যান্ডের দুই সপ্তাহের অনুশীলন ক্যাম্পের পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলেছে জামালরা।

এর পর লাওসের মাঠ ভিয়েনতিয়েন থেকে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ঘরে ফিরেছে সোনার ছেলেরা। তবে ঘরের মাঠে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে পারেনি। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে কিন্তু বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সেবার এশিয়ার সেরা ৩৪ দেশের মধ্যে থাকায় সরাসরি খেলার সুযোগ মিলেছিল।

কিন্তু এবার বাংলাদেশ ছিল এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে ৪১। যার দরুণ খেলতে হয়েছে প্রথম রাউন্ডে। তবে সেবার দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে শুরু করলেও পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। হালি হালি গোল হজম করে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। পরে তাকিকিস্তানের বিপক্ষে প্রাক বাছাইপর্বেও পরাজিত হয়। শুধু তাই নয় এএফসি এশিয়ান কাপের প্রাক বাছাইপর্বে ভুটানের কাছে লজ্জার হার মানে লাল-সবুজরা। ভুটান বিপর্যয়ের পর ফিফা-এএফসি থেকে তিন বছরের জন্য নির্বাসিত থাকে দেশের ফুটবল। আন্তর্জাতিক ম্যাচবঞ্চিত জাতীয় ফুটবল দল ১৭ মাস আলোর মুখ দেখেনি।

গত বছর এ লাওসের বিপক্ষে এক প্রীতিম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। মূলত গত বছর থেকে ফুটবলের হৃত গৌরব আস্তে আস্তে পুনরুদ্ধার হতে থাকে। প্রথমে লাওসের বিপক্ষে প্রীতিম্যাচ দিয়ে শুরু। এর পর ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ, এশিয়ান গেমস, চলতি বছর মার্চে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে প্রীতিম্যাচ-সব মিলে খেলার মধ্যেই ছিল দল। গত এক বছরে মিশ্র ফল করেছে দেশের ফুটবল। হার যেমন ছিল; জয়ের অনেক সাফল্যগাথাও রচনা করেছেন জামাল, সোহেল, রবিউলরা।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে প্রায় দুইশ ছুঁই ছুঁই ফুটবল এখন ১৮৮ নম্বরে। লাওসের বিপক্ষে ভালো ফল র‌্যাংকিংয়ে কিছুটা হলেও উন্নতি ঘটাবে। আরেকটু এগোবে দল। তবে বাছাইপর্বে প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরোতে না পারলে পিছিয়ে পড়া ফুটবল আরও তলানিতে চলে যেত। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার মধ্য দিয়ে মৃতপ্রায় ফুটবলে প্রাণের সঞ্চার করেছেন জামাল, সোহেল, জীবনরা।