advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অস্ত্র মামলায় সাবেক এমপি কাদের খানের যাবজ্জীবন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
১২ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ০৯:২৮

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের অস্ত্র মামলার দুটি ধারায় মূল আসামি জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল (অব) আবদুুল কাদের খানকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় যাবজ্জীবন এবং ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধার ১ নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল কোর্টের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

এই মামলায় শুধু কাদের খানই চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। লিটন হত্যাকাণ্ডের মূল মামলাটি আদালতে এখনো বিচারাধীন রয়েছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, খুনের হুকুমদাতা প্রধান আসামি কাদের খানের বাড়িতে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অভিযান শুরু করে পুলিশ।

এ সময় কাদেরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ির একটি আমগাছের গোড়ায় মাটি খুঁড়ে অস্ত্র ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, উদ্ধার করা পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিগুলো লিটন হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।

এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে ১ জানুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে কাদের খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি লিটন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয় এবং তার রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ডের চতুর্থ দিনে কাদের খান আদালতে ১৬৪ ধারায় লিটন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এর পর থেকে কাদের খান গাইবান্ধা কারাগারে আছেন।

এমপি লিটন ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ মাস্টারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন। পরবর্তী সময় সুনির্দিষ্টভাবে ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। ওই চার্জশিটে কাদের খানকে হুকুমদাতা হিসেবে প্রধান আসামি করে তার কিলার বাহিনীর সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানা, শাহীন মিয়া শান্ত, রাশেদুল হাসান মেহেদী, ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) শামছুজ্জোহা সরকার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, তার ভগ্নিপতি কসাই সুবলচন্দ্র রায়, কাদের খানের গাড়ি চালক আবদুুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে চন্দন কুমার রায় ভারতে পলাতক রয়েছে। অন্যরা সবাই জেলহাজতে আটক রয়েছে। এই অস্ত্র মামলার রায়ে এমপি লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি ও মামলার আইনজীবী পিপি শফিকুল ইসলাম শফিক সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে কাদের খানের আইনজীবী সাবেক পিপি জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা উচ্চতর আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।