advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিভিন্ন দেশের সরকারকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
১২ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ০০:১০
রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তদারকিসহ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার ও সিভিল সোসাইটিকে সংশ্লিষ্ট করতে অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। বিভিন্ন দেশের অনারারি কনসাল জেনারেল এবং বিদেশে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেলদের চিঠি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বোঝা অনির্দিষ্টকালের জন্য বহন করতে বাংলাদেশ সক্ষম নয়। যুগের পর যুগ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও দুর্দশাগ্রস্ত এ জনগোষ্ঠীর অবস্থান এ দেশে দীর্ঘায়িত হলে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। চিঠিতে তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরসহ ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের মতো মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। তার পরও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসরণ করে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য দৃশ্যমান সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমার ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমারের চরম অনাগ্রহের কারণে এখনো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বদেশে প্রত্যাবাসন শুরুর কার্যক্রম অনিশ্চিয়তার মধ্যেই আছে। অনেক চ্যালেঞ্জ ও বাধা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দিক বিবেচনায় এই অসহায় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় দেওয়ার মতো অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বলেও চিঠিতে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযানে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। এসব রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের টেকনাফে আশ্রয় ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে এ পর্যন্ত দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক হলেও মিয়ানমারের দিক থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আশাব্যঞ্জক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।