advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অবিলম্বে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে

১২ জুন ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ০০:১২
advertisement

দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তিন মাসে বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ কিছুদিন আগেই সরকার ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছিল। আশা করা হয়েছিল, এই সুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায়ের চিত্র ইতিবাচক হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নানা সুবিধা ঋণখেলাপিদের কেবল উৎসাহিত করছে না, তাদের সাহসও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারের আপসকামী মনোভাব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি ও সামগ্রিকভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতি ঔদাসীন্যের কারণে ব্যাংক খাতে অচলাবস্থা বেড়েই চলেছে। দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ব্যাংকের নানা খাতে ঋণগ্রহীতাদের সুদের হারে ভিন্নতা ব্যাপক। একই বাজারে ৭ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঋণের হার রয়েছে। এটি অব্যবস্থাপনার একটি চরম দৃষ্টান্ত।

গতকাল থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। এ মাসের শেষের দিকেই নতুন অর্থমন্ত্রী তার উচ্চাভিলাষী বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করবেন। এবারের বাজেটের পরিমাণ ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি হবে। তবে গত অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থেকে গেছে। এবারও একই রকম সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। দেশের ব্যাংকিং খাতে এক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানে ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ ব্যাংক খাতে চলছে তারল্য সংকট ও বিনিয়োগের সমস্যা। এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন হলো, ব্যাংকের এই টাকা কোথায় যাচ্ছে?

প্রচুর অর্থ ঋণ আকারে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছে গেছে। অথচ সে অনুপাতে বিনিয়োগ হয়নি, কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে না। এর অর্থ হলো, একদিকে ঋণের টাকা বাস্তবে বিনিয়োগ হচ্ছে না, অন্যদিকে ব্যাংকেও ফিরে আসছে না। এর এটাই কারণ হতে পারেÑ ঋণের টাকা পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যে অর্থ পাচার হচ্ছে বিদেশে, এর নানা খবর বিভিন্ন সূত্র থেকে ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। ফলে আমরা মনে করি, সরকারের উচিত হবে ঋণের টাকা কোথায় গেছে, তা অনুসন্ধান করা এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে উন্নতির লক্ষণও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কিন্তু এটিকে টেকসই করতে হলে ব্যাংকিং খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। আমাদের আশঙ্কা, বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যাংক মালিকদের যোগসাজশে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি মাত্রাছাড়া পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে এখনই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তার নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা যথাযথভাবে পালনে দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ করে দেওয়া। নয়তো অব্যাহত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও লাগাম ছাড়া দুর্নীতি সরকারের সফল উন্নয়ন প্রয়াসকে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ করে দেবে।

advertisement