advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্মিথ-ওয়ার্নারের আলাপন

সুসান্ত উৎসব
১২ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ০০:১২
ইস, ভারত ম্যাচটা যদি জিততাম! ডেভিড ওয়ার্নারের আফসোস। টিম বাসে ওয়ার্নারের পাশের সিটে বসেছিলেন স্টিভেন স্মিথ। হেডফোনে গান শোনায় মগ্ন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। গুনগুন করে গাইছিলেনও। ওয়ার্নার বললেন, হেঁড়ে গলায় কী গাও এসব! স্মিথ শুনতে পেয়েছেন কিনা, কে জানে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও মুখে হাসির রেখা ফোটালেন। হেডফোন খুলে ফেললেন। ওয়ার্নারকে বললেন, তার পর বলো। এতক্ষণ ধরে কী যেন সব বলছিলে! লে বাবা, কিছুই শোননি তা হলে? পাগলের মতো একাই বকবক করে গেলাম। ওয়ার্নারের কথা কেড়ে নিয়ে স্মিথ বললেন, অল্পের জন্য হলো না। ম্যাচটা কিন্তু আমরা জিততে পারতাম। ব্যাটিং অ্যাপ্রোচটা যদি আরেকটু ঠিকঠাক হতো। তুমি কিংবা আমি যদি উইকেটে আর কয়েক ওভার টিকে থাকতে পারতাম। আমাদের মধ্যে কেউ যদি একটা সেঞ্চুরি করে আসতে পারত...। স্মিথের কথা শুনে ওয়ার্নারের মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল। জাতীয় দলের সতীর্থ। বয়সে স্মিথের চেয়ে ৩ বছরের বড় ওয়ার্নার। তবে সম্পর্কটা বন্ধুর মতো। এই তো বল টেম্পারিং-কা-ে জাতীয় দলে নিষিদ্ধ হওয়ার আগে স্মিথ ছিলেন অধিনায়ক, ওয়ার্নার সহ-অধিনায়ক। প্রতিপক্ষ দলকে আটকাতে দুজনে মিলে কতবার যে শলাপরামর্শ করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। ২০১০ সালে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া স্মিথ ২০১১ বিশ্বকাপে খেলেছেন। ৬ ম্যাচে ৫৩ রান করেন। ২০০৯ সালে ওয়ার্নারের ওয়ানডে অভিষেক হলেও প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছেন ২০১৫ তে। ওই আসরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন স্মিথ (৮ ম্যাচে ৪০২)। হেসেছিল ওয়ার্নারের ব্যাটও (৮ ম্যাচে ৩৪৫)। ২০১৫ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও পরিণত হয়েছেন স্মিথ-ওয়ার্নার। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ক্লার্ক যখন সরে দাঁড়ালেন, তখন নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছিল প্রতিভাবান স্মিথের হাতে। তাকে যোগ্য সঙ্গত করেছেন ওয়ার্নার। সে থেকে দুজনের একসঙ্গে পথচলা শুরু। সম্পর্কটা দিন দিন আরও গাঢ় হয়েছে। গত বছর সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বল টেম্পারিং-কা-ে এই দুজনকে নিষিদ্ধ করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে দুজনই ফিরেছেন জাতীয় দলে। খেলছেন চলমান ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। কিছু সময়ের জন্য দুজনে যেন ফিরে গিয়েছিলেন অতীতে। হঠাৎ বাসের ব্রেক চেপে ধরলেন ড্রাইভার। ব্যস, অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে এলেন স্মিথ-ওয়ার্নার। আবারও শুরু করলেন পরের ম্যাচ নিয়ে আলোচনা। স্মিথ বললেন, ব্যাপার না। এমন তো না যে আমাদের সামনে আর কোনো সুযোগ নেই। তিন ম্যাচের মধ্যে দুটোতে জিতেছি। একটায় হার। সামনে আরও ৬টা ম্যাচ আছে। স্মিথের কথা শেষের আগেই ওয়ার্নার বলা শুরু করলেন। ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা করাটাই বোধহয় বেটার। আপাতত ১২ জুনের (আজ) ম্যাচ নিয়েই আমরা ভাবি। পাকিস্তান কিন্তু ‘আনপ্রেডিকটেবল’ দল। ওদের সমীহ করতেই হচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছে। শোন, স্মিথ। আমরা যদি আগে ব্যাট করি তা হলে ৩২০-এর মতো রান করতে হবে। এটা নিরাপদ। আর যদি আগে ফিল্ডিং করি, তা হলে ওদের ২৫০-২৮০ রানের মধ্যে আটকে ফেলতে হবে। স্টার্ক পেছনের সিটেই ছিলেন। স্মিথ-ওয়ার্নারের কথার মাঝে তিনি বলে বসলেন, স্টিভ, ডেভিড এত ভেবো না। গতি দিয়ে স্টাম্প একদম ভেঙে দেব! একটা হাসির রোল পড়ে গেল। কিছুটা দূরে বসা অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ হয়তো সবটাই শুনেছেন। কিংবা অনুমান করেছেন। তিনি বলে বসলেন, তোমাদের আত্মবিশ্বাস দেখে আমি অভিভূত। আশা করছি, পরের ম্যাচে আমরাই জিতব। কথা শেষ হওয়ার আগেই টিম বাস চলে এসেছে হোটেলে। যে যার মতো নেমে পড়লেন। সোজা চলে গেলেন রুমে। ভারতের কাছে হারের পর স্মিথ-ওয়ার্নারদের মন খারাপ ছিল। এখন অনেকটাই ভালো অনুভব করছেন।