advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘আমরা সেমিফাইনাল খেলব’

১২ জুন ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ০১:১৯

ধারাবাহিক নাটকে তার অনীহা, কাজ করেন না বড়পর্দায়ও। কেন? তার উত্তর কিন্তু মেহজাবিন চৌধুরী কাজের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত জানিয়ে দেন। এবারের ঈদে এনটিভিতে প্রচারিত তার অভিনীত টেলিছবি ‘২২ শে এপ্রিল’ দর্শকের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। এ টেলিছবি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- জাহিদ ভূঁইয়া

ঈদ কেমন কাটল? বেশ ভালো। আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সবার সঙ্গে সুন্দর সময় পার করেছি।

advertisement

‘২২ শে এপ্রিল’ টেলিছবিতে কাজ করার সময় কি বুঝতে পেরেছিলেন, এটি দর্শকের মাঝে এতটা সাড়া ফেলবে? ছোটপর্দার অনেক জনপ্রিয় তারকা এই টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন। তাই শুরু থেকেই এটি নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম। টেলিছবিটি প্রচার হওয়ার পর থেকে পরিচিতজনদের পাশাপাশি ভক্ত-দর্শকরা অনেক প্রশংসা করছেন। টিজার প্রকাশের পর পরই টেলিছবিটির গল্প সম্পর্কে দর্শক ধারণা পেয়েছিল... বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এটি নির্মিত হয়েছে। তাই গল্পের ধারনা পূর্বেই অনুমান করা গেছে সহজেই। কিন্তু গল্পটি এখানে মূখ্য বিষয় নয়। প্রতিটি চরিত্রের অভিনয় আর শেষ ১৫-২০ মিনিটে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা আর অনুভব করাই ছিল এর মূল বিষয়বস্ত।

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় প্রায় সব নাটক-টেলিছবিই ইউটিউবে অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু এ টেলিছবির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন? নির্মাতা, প্রযোজক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বিষয় এটা। তবে অনেক ভক্ত-দর্শকও আমার কাছে এটা জানতে চেয়েছেন। কারণ টিভি চ্যানেলগুলোর মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপনে বিরক্ত দর্শকরা এখন বলতে গেলে পুরোপুরিই ইউটিউবমুখী। ‘২২ শে এপ্রিল’ ইউটিউবে রিলিজ না দেওয়ায় অনেকেই হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের সঙ্গে আপনার কাজের রসায়নটা বেশ চমৎকার... সত্যিই তাই। ২০১৭ সালের ঈদুল ফিতরে তার পরিচালিত ‘বড় ছেলে’ নাটকটি মাঝে বেশ ফেলেছিল।

ইতোমধ্যে এটি ইউটিউবে ২ কোটিবারের দেখা হয়েছে। আর্থিক টানাপোড়েন-ক্লিষ্ট অতি সাদাসিধে একটা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলের প্রেম এবং পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ববোধের সংঘাত নিয়ে এর গল্প। ঈদের অন্য কাজগুলো নিয়ে কেমন প্রশংসা পাচ্ছেন? চলছে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ- ‘আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ’-এর দ্বাদশ আসর। এতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দামাল ছেলেরা। এ কারণে এবারের ঈদ আয়োজনে টিভি চ্যানেলগুলোর দর্শক অনেক কম ছিল। তার পরও বেশ কিছু কাজের জন্য দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছেÑ ‘শেষটা সুন্দর’, ‘পারফেক্ট হাজবেন্ড’, ‘টেস্ট রিপোর্ট’, ‘বেলি ফুলের বিয়ে’ প্রমুখ। নিজের অভিনীত নাটক-টেলিছবির বাইরে অন্যদের কাজ দেখা হয়? ঈদে অনেকের কাজ দেখার চেষ্টা করি। নতুন পরিচালকের কাজ যেমন দেখি, শিল্পীদেরও দেখি। নিজের উন্নয়নের জন্য সব শিল্পীর কাজ দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। সবাই কী ধরনের কাজ করছেন, এটা বোঝার চেষ্টাও করি।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন? আমার বিশ্বাস, এবার আমরা সেমিফাইনাল খেলব। প্রথম খেলায় জয়ের পর সবার মধ্যে এই বিশ্বাসটা আরও বেশি কাজ করছে। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমরা জিততে জিততে হেরে গেছি। আমরা রুবেলকে মিস করেছি। রুবেল থাকলে প্রত্যাশার পরিধি আরও বড় হতো। সবশেষে বলতে হয়, বিশ্বকাপের আগেই আমরা প্রথবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজে জয়লাভ করেছি। তাই আমাদের মনোবল বেশি। এটা হারালে চলবে না। বাংলাদেশের সামনে অনেক সম্ভাবনা। অনেক দলই জানে, বাংলাদেশ খুব শক্তিশালী।

নিজ দেশের বাইরে আর কোনো দল বা খেলোয়াড়ের খেলা ভালো লাগে কি? নিজ দেশের প্রতিটি খেলোয়াড়ই প্রিয়। প্রতিপক্ষ যে দলই হোক, বাংলাদেশ জিতবে- এই আশা নিয়ে খেলা দেখি। বাংলাদেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার খেলা ভালো লাগে। শেন ওয়ার্ন, ব্রেট লির অসাধারণ বোলিং দেখেই এই দলের প্রতি ভালো লাগা। তবে আমাদের দেশের খেলোয়াড়রা যেভাবে হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, সেভাবে আর কেউ পারবে না।