advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাধ্য হয়ে স্কুল ছেড়ে শ্রমিক হচ্ছে শিশুরা

মো. অমিত হাসান সজল, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ঘাসফুল শিশু ফোরাম
১২ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ০০:৪৭
‘পড়াশোনা করে সার্টিফিকেট পেলেও চাকরির নিশ্চয়তা নেই। অনেক শিক্ষিতই বেকার ঘোরে। তাই আমাদের মতো গরিব ঘরের অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠায়। যাতে কাজ শিখে পরবর্তী সময় টাকা উপার্জন করে পরিবারের সহযোগিতা করতে পারি। এভাবেই আমাদের আর স্কুলে যাওয়া হয় না।’ গোলটেবিল আলোচনায় এভাবেই শিশুশ্রমিকদের অসহায়ত্বের কথা শোনাচ্ছিলেন কিশোর মো. অমিত হাসান সজল। গত সোমবার আমাদের সময় অফিসে আয়োজিত শিশুশ্রম নিয়ে গোলটেবিল আলোচনায় এসেছিল সেও। এক এক করে তুলে ধরছিল শিশুশ্রমিকদের জীবনগাথা। ঘাসফুল শিশু ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. অমিত হাসান সজল জানায়, তিন বেলা খাবার আর পরিবারের প্রয়োজনেই বাধ্য হয়ে স্কুলে যাওয়া হয় না তাদের। সজল বলে, আমাদের বাবা-মাদের ধারণা যে, ছোটবেলা থেকে কারিগরি কোনো কাজে সম্পৃক্ত হলে ভবিষ্যতে আয়ের একটা গতি হবে। পড়াশোনা করলে সময় নষ্ট ও টাকা দুটোরই অপচয় হবে। কেননা পড়াশোনার পর চাকরির নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে অনেক অসাধু মিল-কারখানা মালিকরা গরিব পরিবারের এসব শিশুর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ জানায় সজল। সজল জানায়, দরিদ্র এসব শিশুর প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ নেই জেনে অনেক মালিক-মহাজন অল্প পারিশ্রমিকে শিশুদের কাজ করায়। নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করায়। অথচ এগুলো কেউ দেখে না। নীরবে খেটে মরে নিষ্পাপ শিশুরা। দ্রুত এ অবিচার বন্ধ ও শ্রমিকের শিকল থেকে নিষ্পাপ এসব শিশুর মুক্তির দাবি জানায় সজল। শিশুরা কারখানায় নয়, তারা যেন স্কুলে যেতে পারে এটাই তার স্বপ্ন।