advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুন ২০১৯ ১৭:১৯ | আপডেট: ১২ জুন ২০১৯ ১৭:২৪

যকৃতের (লিভার) অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ন্যাশ বা ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারও হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া ৫০ শতাংশ মানুষের লিভারে ন্যাশ রয়েছে (ন্যাশ হচ্ছে, লিভারে চর্বি জমার পর প্রদাহ সৃষ্টি)।

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ন্যাশ দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার বাংলাদেশ এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)।

মামুন আল মাহাতাব বলেন, ‘লিভারে অতিরিক্ত চর্বিজনিত একটি রোগ হচ্ছে ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভার সিরোসিস হয়। এমনকি লিভার ক্যানসার হতে পারে। বাংলাদেশসহ সারা দেশেই ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ লোকের ফ্যাটি লিভার সমস্যা রয়েছে। এছাড়া ৫০ শতাংশ মানুষের লিভারে ন্যাশ রয়েছে।‘

এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘পাশ্চাত্যে ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ অ্যালকোহল পান। কিন্তু আমাদের মতো দেশগুলোতে মেদ-ভুঁড়ি, ডায়াবেটিস, ডিজলিপিডেমিয়া বা রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ আর হাইপোথাইরয়েডিজমই ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ। তবে বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি। এছাড়া হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলোর মধ্যে হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস অনেক সময়ই ফ্যাটি লিভার সৃষ্টি করে থাকে।’

ডা. মামুন আল মাহাতাব বলেন, ‘ফ্যাটি লিভার রোগটি বিশ্বজনীন। সারা বিশ্বেই এর দেখা মেলে। তবে পশ্চিমা বিশ্বে এই রোগের প্রাদুর্ভাব খুবই বেশি। শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ আমেরিকান অ্যাডাল্ট এবং ১০ শতাংশ শিশু ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। জাপান ও ইটালিতে মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৫৮ শতাংশ ফ্যাটি লিভার রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের শতকার ১৬ ভাগের ফ্যাটি লিভার রয়েছে।’

আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৩ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর ফ্যাটি লিভার রয়েছে। ভারতীয় ৪৯ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত।

এ ছাড়া এ দেশের প্রায় ৪ শতাংশ লিভার সিরোসিস রোগী ফ্যাটি লিভার থেকে আক্রান্ত রয়েছে। ফ্যাটি লিভার থেকে একবার লিভার সিরোসিস হলে ১৫ শতাংশ রোগী ৭ বছরের মধ্যে আর ২৫ শতাংশ রোগী ১০ বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণের ঝুঁকিতে থাকেন বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহাতাব বলেন, ‘ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভারে যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তা থেকে লিভারকে রক্ষা ও পাশাপাশি লিভারে হেপাটাইটিস কমিয়ে আনার জন্য সারা পৃথিবীতেই ব্যাপক গবেষণা চলছে। আমাদের দেশেও সীমিত আকারে চলছে। এ কথা ঠিক যে এখনো এজন্য শতভাগ কার্যকর কোনো ওষুধ আবিস্কৃত হয়নি। ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে লিভারে সিরোসিস ও ক্যানসারের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা।’

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, পরিকল্পিত ডায়েট কন্ট্রোল, এক্সারসাইজ, ওষুধ সেবন কিংবা প্রয়োজনে অপারেশন করা যেতে পারে। পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারের কারণ নির্ণয় ও তার যথাযথ চিকিৎসাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিএসএমএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহাতাব।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন-অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দোপাধ্যায়, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আলী শিকদার, সাবেক সচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের ফার্মাসিটিউক্যালস বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ফারুক, জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ ও ডিপ্লোম্যাটিক করসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলাম হাসিবসহ অনেকেই।