advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিএনপি কার্যালয়ে তালা, নেপথ্যের কারিগরদের খুঁজছে হাইকমান্ড 

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুন ২০১৯ ২১:২২ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ০২:০৬
advertisement

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়ার পেছনে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির বিক্ষুদ্ধ নেতাদের ইন্ধন দেওয়া বিএনপি নেতাদের খুঁজছে দলের হাইকমান্ড। একই সঙ্গে দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে কার্যালয় থেকে বের করা, তাকে তুলে নিতে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা ও তার বিল পরিশোধ করা নেতাকেও খোঁজা হচ্ছে।

আজ বুধবার দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ইন্ধনদাতা হিসেবে বেশ কয়েকজন নেতার নাম ঢাকা থেকে লন্ডনে তারেক রহমানকে জানানো হয়েছে।

ইন্ধন দাতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা, সার্চ কমিটির নেতা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক ছাত্রদলের সাবেক একজন নেতার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের অনুসারী ছাত্রদল নেতারা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিদ্রোহের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির দুই নেতা মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাড়া সিনিয়র কোনো নেতাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে আন্দোলন স্থগিত করায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বুধবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে অসুস্থ রুহুল কবির রিজভীর শারীরিক খোঁজ-খবর নেন। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাকে দেখতে আসেন।

নয়াপল্টনে বিএনপির দপ্তরের একটি ছোট কক্ষে আজও তার স্যালাইন চলছিল। জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘গত রোববার থেকে স্যালাইনের ওপর যাচ্ছি। আজ বিকেলে প্রথম চিকিৎসকদের পরামর্শে সুপ খেয়েছি।’

গত ৩ জুন রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করা হবে। কাউন্সিলে প্রার্থী হতে তাকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যেকোনো বছরে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

দলের একাধিক নেতা বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। অনেক দিন থেকে জেলা-মহানগর-বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি হচ্ছে এসএসসি ২০০০ সাল ধরে। একই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় কমিটি হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম যা-ই হোক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। বয়সসীমার কারণে যারা বাদ পড়েছেন তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের পদায়ন করা হবে। ছাত্রদলের কমিটির পর অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের কমিটিও কাউন্সিলের মাধ্যমে করা হবে।

ইতিমধ্যে ছাত্রদলের কাউন্সিল-২০১৯ সফল করতে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, বাছাই কমিটি ও আপিল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির নেতারা জানান, গতকাল মঙ্গলবার কমিটির নেতারা গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকও করেছেন। ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা ভোট দেবেন তাদের (কাউন্সিলর) তালিকা তৈরিসহ প্রয়োজনী কাজে হাত দিয়েছেন নেতারা।

এদিকে, আজ রাতে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি ও আন্দোলনকারীরা পৃথক বৈঠক করেছেন। এই বৈঠক থেকে সার্চ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপের মাধ্যমে ছাত্রদল চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার কথা ছিল। কিন্তু সার্চ কমিটির নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের কোনো কথা হয়নি। এ কারণে সার্চ কমিটি আন্দোলনকারী ছাত্রদল নেতাদের কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনকারীরা সার্চ কমিটির নেতাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে বুধবার কোনো কর্মসূচি (সাময়িকভাবে স্থগিত) পালন করেনি।

তবে, রাতে নিজেদের মধ্যে বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা সার্চ কমিটির আশ্বাসের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত দেননি, যার কারণে বৃহস্পতিবার আবার আমরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করব। তবে দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়া, কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া অথবা কোনো বিশেষ নেতাকে (রুহুল কবির রিজভী) টার্গেট আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না; এখনো থাকবে না।’

advertisement