advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বকেয়া টাকা পেতে রাস্তায় গর্ত খুঁড়লেন ইউপি সদস্য

নাটোর প্রতিনিধি
১২ জুন ২০১৯ ২২:৫৪ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ০১:০২

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রোজেক্টের (এলজিএসপি) আওতায় রাস্তা নির্মাণ কাজের বিল পাওয়ার জন্য গর্ত খুঁড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চকগোয়াশ কুলপাড়ার রাস্তায় এ কাজটি করেছেন চার নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন বাদশা।

তবে ইউপি সদস্য বাদশার দাবি, নির্মিত রাস্তার কাজের চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষ না হতেই দশ চাকাবিশিষ্ট ভারী যানবাহন চলাচল করে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে জামানতসহ তার কাজের বিল না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তা নির্মাণ কর্মসূচির লোকজন দিয়ে রাস্তাটি খুঁড়ে গর্ত করায় ওই রাস্তা দিয়ে কোনো ধরনের যান চলাচল করতে পারছে না। ফলে হাঁটা ছাড়া যানবাহন নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে না পারায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সাদিমারা বটতলা-স্বরাপপুর রেলগেট সড়ক থেকে চকগোয়াশ কুলাপাড়া গ্রামের মধ্যে রাস্তাটি প্রবেশ করেছে। কিছুদিন আগে রাস্তাটির কিছু অংশ এইচবিবি করণ করা হয়েছে। পূর্বদিকে রাস্তার শেষাংশের মাঝখানে মাটি খুঁড়ে প্রায় তিন ফুট গর্ত করা হয়েছে। এতে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে পাশের একটি সড়ক সংস্কারের কাজে বালিবাহী ভারী যানবাহন নতুন এ রাস্তা দিয়ে চলাচলের কারণে রাস্তাটি বেশকিছু স্থানে দেবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে চকগোয়াস কুলপাড়ায় ৫৭ দশমিক ৮ মিটার রাস্তার কাজ বাস্তবায়নে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কাজটি করেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন বাদশা। প্রায় তিনমাস পূর্বে রাস্তার কাজ শেষ হলেও চূড়ান্ত পরিদর্শনের অপেক্ষায় আছে রাস্তাটি। আর এ পরিদর্শন শেষ হলে কাজের বিল ও জামানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন ওই ইউপি সদস্য।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বাদশা বলেন,‘নির্মিত এই লোকাল রাস্তা দিয়ে ভারী যান চলাচল করার কোনো নিয়ম নাই। এরপরও পাশের একটি রাস্তার কাজের জন্য দশ চাকাবিশিষ্ট গাড়ি বালিভর্তি করে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে রাস্তাটি নষ্ট করছে। ওই রাস্তা দিয়ে ভারী যান চলাচল করতে নিষেধ করা হলেও তা মানছে না। এ ছাড়া লাল পতাকা দেওয়া হলে তারও তোয়াক্কা করেনি। এমনকি বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করার পরও বাঁশ সরিয়ে দিয়ে ভারী এসব যানবাহন মালামালসহ যাতায়াত করছে। কিন্তু নতুন রাস্তাটি যেহেতু এখনো চূড়ান্ত পরিদর্শন হয়নি।’

ইউপি সদস্য আরও ‘এসব গাড়ি চলাচলের ফলে রাস্তাটি নষ্ট হলে জামানতসহ তার বিল আটকে যেতে পারে। এতে তার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তাই ওই ভারী যান চলাচল বন্ধ করতে তিনি কর্মসূচির লোক দিয়ে গর্তটি করেছেন বলে জানান। তবে লোকজনকে পাশ দিয়ে ভ্যান যাতায়াতের জায়গা রেখে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য গর্ত করতে বললেও তারা বেশি পরিমাণ গর্ত করেছেন বলে দাবি ইউপি সদস্যের।

এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, রাস্তায় গর্তের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।