advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শেখ হাসিনা সরকারের ইতিহাস

আলী আসিফ শাওন
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:০০

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম টানা তিন মেয়াদে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। এর আগে কোনো সরকারই ধারাবাহিকভাবে এতগুলো বাজেট প্রণয়ন করতে পারেনি। ধারাবাহিকভাবে একটি দল ক্ষমতায় থাকার কারণে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদগণ।

শুধু তাই নয়, গত ১০ বছরে দেশে যে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে তা বাজেটের আকার দেখেই বোঝা সম্ভব বলেও মত দিলেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ দেশ-কালের সীমানা পেরিয়ে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকার বজেট দিয়ে যাত্রা শুরু হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহজোট সরকারের। এর পর নবম ও দশম সংসদের পুরো মেয়াদে মোট ১০টি বাজেট ঘোষণা করেন দুই মেয়াদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। আজ বৃহস্পতিবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বাজেট ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ধারাবাহিক সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ বছরে দেশের বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ গুণ। এ থেকেই বোঝা যায় বাংলাদেশে এ ১০ বছরে ৫ গুণ উন্নতি হয়েছে। বর্তমান মেয়াদে বাংলাদেশের উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী হয়ে নবম সংসদ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। দলটির একাংশের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে বলেই স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় অর্থনীতির কিছু মৌলিক সমস্যারও সমাধান হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে বাংলাদেশে অনির্বাচিত ও সামরিক সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা দেশ নিয়ে ভাবেনি, দেশের অর্থনীতি নিয়ে ভাবেনি। যার ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ননটাও রুদ্ধ হয়ে ছিল। এখন সেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নবম থেকে শুরু করে একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবেসে টানা তিন মেয়াদে বাজেট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। যার ফলে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আমি গর্বিত।

আওয়ামী লীগের এ সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শুধু বাংলাদেশের নয়, তিনি দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হচ্ছেন তার ভিশনারি লিডারশিপের জন্য। গত ১০ বছরে বাংলাদেশে বজেটের শুধু আকারই বৃদ্ধি পায়নি, আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। এবারের বাজেটের মধ্য দিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেখবে বিশ্ববাসী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

ধারাবাহিক সরকারের নবীন এ সদস্য আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ১০ বছরে ৫ গুণ বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে, এ থেকে বোঝা যায় দেশের উন্নয়নের গতিও ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে যে অভাবনীয় উন্নতি হচ্ছে, বাজেটের আকারই বলে দিচ্ছে তা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদের এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য হিসেবে টানা তিন মেয়াদের বাজেট প্রণয়নের ক্ষুদ্র অংশীদার হিসেবে আমি গর্বিত। কারণ, আজকে জাপানসহ অনেক দেশই জানতে চান, বাংলাদেশের উন্নয়নের রহস্যটা কোথায়। গোটা বিশ্ব আজ শেখ হাসিনার উন্নয়নের মডেল সর্ম্পকে জানতে আগ্রহী।