advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সেঞ্চুরিতে ওয়ার্নারের জবাব

সুসান্ত উৎসব
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:০৩
advertisement

সেঞ্চুরির পর সেই চিরচেনা উদযাপন। ভারত ম্যাচে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে সমালোচনার তীরে রীতিমতো বিদ্ধ হয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ তার ‘কচ্ছপগতির’ ব্যাটিং! তিনি মুখে কিছু বলেননি। জবাব দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে প্রিয় প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ম্যাচকে বেছে নিয়েছেন। শতরানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সব সমালোচনাকে যেন এক ঝটকায় উড়িয়ে দিলেন ডেভিড ওয়ার্নার!

টনটনে দারুণ ব্যাটিং করেছেন ওয়ার্নার। ১০২ বলে শাহিন আফ্রিদিকে চার মেরে সেঞ্চুরির স্বাদ পান অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার। এ সময় তার মুখের হাসিই বলে দিচ্ছিল, এই সেঞ্চুরি কতটা স্বস্তির। শেষ পর্যন্ত ১১১ বলে ১০৭ রান করে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ১১টি চার ও ১টি ছক্কায়। বল টেম্পারিংকাণ্ডে জাতীয় দলে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন ওয়ার্নার।

এ সময় বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। সেখানেও ব্যাট হাতে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন। ভারতের জনপ্রিয় ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ আইপিএলের সবশেষ আসরে সানরাইজার্স হায়দরাদের জার্সিতে উজ্জ্বল ছিলেন ওয়ার্নার। ১২ ম্যাচে ৬৯.২০ গড়ে ৬৯২ রান করেন। সেঞ্চুরি ১টি। ফিফটি ৮টি। শুধু হায়দরাবাদেই নয়, আইপিএলের ২০১৯ আসরে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান। আইপিএলের ফর্ম বিশ্বকাপ মঞ্চে টেনে এনেছেন ওয়ার্নার! নিষিদ্ধ হওয়ার আগে গত বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে সবশেষ ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলেছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে অবশ্য নিজের ছায়া হয়েছিলেন। ২, ৩৫, ৮, ১৩ ও ১৫ রান করেন। তবে এর আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে এসে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে একটি সেঞ্চুরি (১২৪) ও একটি ফিফটি করেন। গত বছরের মার্চে সাউথ আফ্রিকা সফরে গিয়ে টেস্টে বল টেম্পারিংকাণ্ডে তিনিও অভিযুক্ত হন। সেই সময় ওয়ার্নার ছিলেন স্টিভেন স্মিথের ডেপুটি। এ দুজনকেই এক বছরের জন্য জাতীয় দলে নিষিদ্ধ করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

ব্রিস্টলে আফগানিস্তান ম্যাচ দিয়ে কুড়ি উনিশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা প্রথম ম্যাচে পেয়েছে দারুণ জয়। ওই ম্যাচে ৪৩ রান করেন ওয়ার্নার। এ জন্য ১১৪ বল খেলেছেন।

আফগানিস্তান ম্যাচে ইংলিশ দর্শকদের দুয়োর শিকার হয়েছিলেন। নটিংহ্যামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ৮ বল খেলে তিনি আউট হন ব্যক্তিগত ৩ রানে। এর পর ওভালে ভারত ম্যাচে করেছেন ধীরগতির ব্যাটিং। ৮৪ বলে ৫৬ রানে আউট হন। এর পরই শুরু হয় সমালোচনা। তবে কখনই মুখে কিছু বলেননি ওয়ার্নার। নিষিদ্ধ হওয়ার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি (১৩০ ও ১৭৯) করেছিলেন।

এবার বিশ্বকাপ মঞ্চে করলেন সেঞ্চুরি। এ নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ তিন ওয়ানডেতেই সেঞ্চুরি হলো ওয়ার্নারের। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে জাতীয় দলে ফেরার পর এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপে দ্বিতীয়। ১১০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৫তম।

টনটনে উদ্বোধনী জুটিতে অ্যারোন ফিঞ্চ-ওয়ার্নার জুটি ১৪৬ রান স্কোরকার্ডে যোগ করেন। ফিঞ্চ ৮২ রানে আউট হন। ওয়ার্নার সেঞ্চুরি করেন। এই দুজন ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান জ্বলে উঠতে পারেননি। মোহাম্মদ আমিরের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে ৪৯ ওভারে ৩০৭ রানে অলআউট হন অজিরা। আমিরের বোলিং ফিগার ১০-২-৩০-৫।

advertisement