advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জাদুঘরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিবিষয়ক গণশুনানি

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:৩২

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সর্বস্তরের দর্শক, গবেষক, সংগ্রহকারক এবং জাদুঘরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গিকারাবদ্ধ। এ অঙ্গিকার কতখানি পূরণ করা সম্ভব হয়েছে-এ বিষয়ে গতকাল বেলা ১১টায় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘গণশুনানি জাদুঘর পরিদর্শনে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শিরোনামে এ আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. আবদুল মজিদ। জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলঙ্করণ শিল্পকলা বিভাগের কিপার এবং ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগের কিপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নূরে নাসরীন, সময়কালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা বিভাগের কিপার ও সংরক্ষণ রসায়নাগার বিভাগের কিপার ড. বিজয় কৃষ্ণ বণিক, জনশিক্ষা বিভাগের কিপার ড. শিহাব শাহরিয়ার এবং প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগের কিপার (চলতি দায়িত্ব) কঙ্কন কান্তি বডুয়া। এ ছাড়া কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যাংকার, সাধারণ দর্শকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

advertisement

এদের মধ্যে সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ, ছড়াকার আসলাম সানী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শিপ্রা সরকার, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, বেরাইদ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক লায়না আরজুমান বানু, টোবাব পরিচালক তমাল উল্লেখ্যযোগ্য।

অনুষ্ঠানে বক্তাদের মন্তব্যে উঠে এসেছে জাদুঘর থেকে যতটুকু পেয়েছেন, তারা এর থেকেও বেশি প্রত্যাশা করেন। গ্যালারিতে আরও বেশি আর্টিকেল প্রদর্শনী করা, প্রদর্শনী গ্যালারিগুলো আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। বক্তাদের বিভিন্ন মতামতের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিপাররা তাদের মত তুলে ধরেন এবং বক্তাদের মতামত বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ হওয়া অর্থ সঠিকভাবে খরচ করার জন্য জাতীয় জাদুঘরে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল নেই। রয়েছে অর্থের সংকটও। গত ২০০৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় জাদুঘরের জন্য ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সম্প্রতি জাতীয় জাদুঘর ও জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর সমন্বিত ভবন নির্মাণে কাজ শুরু করেছে। ১৩ তলা ভবনটি নির্মাণ হলে জাতীয় জাদুঘরের গ্যালারি ৪৫ থেকে উন্নীত হয়ে ১০০টিতে উন্নীত করা সম্ভব হবে। এতে আমাদের আরও যেসব নিদর্শন রয়েছে, সেগুলোও প্রদর্শন করতে পারব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শিপ্রা সরকার মনে করেন, গবেষণা বাড়াতে হবে জাদুঘরের পক্ষ থেকে। লাইব্রেরিতে প্রাচীন পুঁথিগুলো যেন গবেষকরা আরও সহজে ব্যবহার করতে পারেন, তার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ বলেন, সংস্কৃতি, ইতিহাস, রাজনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে জাতি গঠনে যারা বিভিন্ন সময়ে অবদান রেখেছেন, তাদের কিছু কিছু স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে চার স্কেলে হলেও জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত হওয়া দরকার। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিকরা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় জাদুঘর সফরে আসেন। তাদের সামনে বাংলাদেশের ইতিহাস উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষিত একটি কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতেও পরামর্শ দেন তিনি।