advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণে বরাদ্দ জরুরি

এম এইচ রবিন
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ০৯:৫১
advertisement

ইউনেস্কোর মান অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ হলে সেটাকে আদর্শ শিক্ষা বাজেট ধরা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এর চেয়ে অনেক কম। আবার যে বরাদ্দ থাকে, তার বেশির ভাগই অনুন্নয়ন খাত অর্থাৎ শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হয়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়নমূলক শিক্ষার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা বাজেটে উন্নয়ন খাতের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণে আরও বেশি বরাদ্দ রাখা জরুরি।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে।

এতে শিক্ষা খাতে ৬১ হাজার ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আসতে পারে। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের জন্য থাকবে ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি ৯০ লাখ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের জন্য ৭ হাজার ৪৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ২৪ হাজার ২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা বাজেটে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাতে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের কার্যকর উন্নয়ন হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের আগের মতোই দৌড়াতে হয় কোচিং ও প্রাইভেটের পেছনে। স্কুলগুলোও ক্লাসের পাশাপাশি আয়োজন করছে কোচিংয়ের। ফলে বেড়েই চলছে শিক্ষা ব্যয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষা এখন বাণিজ্য হয়ে গেছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারাই শিক্ষা কিনতে পারছে। তাই সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ দরকার। সেই হিসেবে আমরা শিক্ষা খাতে অন্তত জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ চাই। এর পরও যেটা বরাদ্দ হচ্ছে, সেটারও ঠিকমতো ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মর্যাদায় জোর দিতে হবে। আমাদের গবেষণা একেবারেই কম। এ জায়গাটায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

শিক্ষা গবেষক খায়রুল আলম মনির বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় শিক্ষার জন্য ন্যূনতম জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত বাজেটগুলোয় তা প্রতিফলিত হয়নি। জিডিপির ২ দশমিক ২ শতাংশ ব্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মূল বাজেটের ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ বরাদ্দ ছিল।

তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, সৃজনশীল পদ্ধতিসহ সমসাময়িক বিষয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। তা হলে এর সুফল পাবে শিক্ষার্থীরা। ক্লাস ছেড়ে কোচিংয়ে দৌড়াবে না ছেলেমেয়েরা। বর্তমান ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ২৩ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুন্নয়ন ব্যয় ১৬ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ৬ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা হচ্ছে অনুন্নয়ন ব্যয় এবং উন্নয়ন ব্যয় হচ্ছে মাত্র ৮৩৯ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ছিল ২২ হাজার ২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুন্নয়ন ব্যয় ১৩ হাজার ২৭০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৮ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা।

advertisement