advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাসচালক-হেলপারের ফাঁসি চান পারুল

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ০২:৪৫
advertisement

চোখের সামনে স্বামী সালাহউদ্দিনকে লাথি দিয়ে বাস থেকে ফেলে সেই বাসের চাকায় পিষে হত্যাকারী চালক ও হেলপারের ফাঁসি চান ময়মনসিংহের ফুলপুরের পারুল আক্তার। তিনি উপজেলার শিলপুর গ্রামের আবদুল জব্বারের মেয়ে। গত মঙ্গলবার শিলপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে পারুল আক্তার বলেন, ‘আমার কোনো সন্তান নাই, আমার স্বামী ছিল আমার আশা-ভরসা। আমি এখন কীভাবে বাঁচব। আমাকে ওরা মেরে ফেলতে চেয়েছিল; কিন্তু একটি মাইক্রোর জন্য ওরা আমাকে মারতে পারেনি। একটি মাইক্রো বাসটিকে ধাওয়া করলে হেলপার আমাকে বাস থেকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয়। এতে আমি আহত হই। আমি আমার স্বামীর খুনিদের ফাঁসি চাই। আর যাতে কারও জীবনে এ রকম দুর্ঘটনা নেমে না আসে, ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পারুল আরও বলেন, আমার স্বামীও একজন বাসচালক ছিলেন। একজন বাসচালক আরেকজন বাসচালককে এভাবে হত্যা করতে পারে, তা আমার কল্পনাতেও আসে না। ঈদের ছুটিতে স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল পারুল আক্তার। ছুটি শেষে গত রবিবার (৯ জুন) আলম এশিয়া পরিবহনের বাসে করে গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তারা।

পারুল জানান, ভাড়া নিয়ে বাগ্বিত-ার জেরে বাসে তার স্বামী সালাহউদ্দিনকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকায় তার ও স্বজনদের সামনে বাস থেকে লাথি দিয়ে সালাহউদ্দিনকে ফেলে দেয় বাসের হেলপার। তার পর তাকে না নামিয়ে বাসটি দ্রুত ছেড়ে যেতে চাইলে সালাহউদ্দিন উঠে তার ছোট ভাই জামালকে নিয়ে বাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এ সময় চালক রোকনউদ্দিন তাদের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেয়। এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান সালাহউদ্দিন। তিনি ঢাকার আলু বাজারের মৃত শাহানউদ্দিনের পুত্র এবং বাঘের বাজার এলাকায় একটি কারখানার গাড়িচালক।

পারুল আরও জানান, তাদের দুজনের ভাড়া ৩০০ টাকার স্থলে আদায় করা হয় ৬০০ টাকা। সালাহউদ্দিন নিজে একজন গাড়িচালক হিসেবে ৫০ টাকা কম দিতে চাইলে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়। উল্লেখ্য, ঘাতক বাসচালক রোকনউদ্দিন (৩৫) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার লতিফপুর নোয়াপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে।

advertisement