advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রেমিক

শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ০৯:৫৬
advertisement

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার তরুণী সাবিনা আক্তারের (২১) মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে প্রেমিক সাইফুল। গত মঙ্গলবার (১১ জুন) রাতে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ স্বীকারোক্তি দেয়।

গতকাল বুধবার (১২ জুন) দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী শামসেরউদ্দিন এ তথ্য জানান। লে. কর্নেল কাজী শামসের জানান, গত ৮ জুন শিবপুর উপজেলার কাজীর চর গ্রামের একটি কলাক্ষেত থেকে উপজেলার মাছিমপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মিলন মিয়ার মেয়ে সাবিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে সাবিনার মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে শিবপুরের কলেজ গেট এলাকা থেকে সাবিনার প্রেমিক দুই সন্তানের জনক সাইফুল ইসলামকে (২৮) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ১১-এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল। সাইফুল শিবপুর উপজেলার দুলালপুর খালপাড় গ্রামের মৃত হানিফ ফকিরের ছেলে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জানায়, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর শাহীনুর বেগম নামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সংসারে পাঁচ বছর ও ১০ মাস বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। প্রায় তিন মাস পূর্বে শিবপুর উপজেলার ধানুয়াস্থ একটি মাজারে তার সঙ্গে পরিচয় হয় সাবিনা আক্তারের। তখন সাইফুল দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানের তথ্য গোপন করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাবিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এই সূত্র ধরে সাবিনা আক্তারকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেত সাইফুল। এ সুযোগে সাইফুল একাধিকবার সাবিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরই মধ্যে তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে জানতে পারে সাবিনার চাচাতো বোন।

এর পরই বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাবিনাকে ধর্ষণের ফন্দি আঁটে সাইফুল। এদিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাইফুল ও সাবিনা বিয়ে করার জন্য গত ৬ জুন বিকালে শিবপুরে একত্রিত হয়। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে পার্শ্ববর্তী পলাশ উপজেলার টান চলনা গ্রামে চাচাতো বোনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় তারা। পথে রাত নয়টার দিকে সিএনজি থেকে নেমে কৌশলে সাবিনাকে একটি কলাক্ষেতে নিয়ে যায় সাইফুল। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

এক পর্যায়ে সাবিনা চিৎকার শুরু করলে সাইফুল নিজের শার্ট দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এর পর সাবিনার মৃতদেহ ধর্ষণ করে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে তার ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায়। পরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়ির টয়লেটে ও ভ্যানিটি ব্যাগ বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি নর্দমায় ফেলে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

১১ জুন রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে র‌্যাব ১১-এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাইফুলকে আটক করলে সে হত্যা ও ধর্ষণের বিস্তারিত বিবরণ দেয়। এদিকে সাইফুলের তথ্যমতে তার বাড়ি থেকে সাবিনার ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল ও শ্বাসরোধে ব্যবহৃত শার্ট উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

advertisement