advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা চাই

১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:৪২

দুদকের একজন পরিচালক ও পুলিশের একজন ডিআইজির মধ্যে দুর্নীতি নিয়ে পারস্পরিক যে দোষারোপ চলছে, তা কোনোভাবেই রাষ্ট্র পরিচালনার সুস্থ চিত্র তুলে ধরে না। তাদের দুজনের মধ্যে ৪০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ডও পাওয়া যাচ্ছে।

একজন বলছেন তিনি অপরজনকে ফাঁসানোর জন্য ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তা রেকর্ড করেছেন। অন্যজন সম্পূর্ণ ঘটনাটি অস্বীকার করছেন।

কথা হলো, ঘুষ প্রদান এবং গ্রহণ উভয়ই সমান দণ্ডনীয় অপরাধ। তা ছাড়া যে প্রতিষ্ঠান দুটি দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার কাজে নিয়োজিত, তার দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে দুই প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে শুরু করলেও পুলিশ বিভাগ স্পষ্টভাবে কোনো পদক্ষেপ এখনো নেয়নি।

বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও শক্ত অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের মনে হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতিই গ্রহণ করতে হবে। এভাবে সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিভাগীয় তদারকি এড়িয়ে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলতে পারেন না এবং নিজেরা সাফাই গেয়ে যেতে পারেন না।

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দ্রুত তদন্ত করা দরকার, যাতে দোষী ব্যক্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ চিত্র উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে দুদক তাদের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও পুলিশ বিভাগ এখনো সক্রিয় হয়নি। বিষয়টি ধোঁয়াটে অবস্থায় থাকলে একদিকে অপরাধীরা এ সুযোগ নেবে এবং অন্যদিকে সরকারের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাবে। এমনিতেই বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি বড় সংকট। এর রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষক।

ক্ষমতাকে ঘিরে সরকারের প্রতিটি দপ্তরে কমবেশি দুর্নীতি চলে আসছে। বিভিন্ন রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ সত্ত্বেও দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়নি, রোধ করা দূরের কথা। যেভাবে পুলিশের ডিআইজি ও দুদকের পরিচালকের মধ্যে দুর্নীতির তরজা চলছে, তা এ ব্যাপারে আমাদের প্রশাসনিক ও আইনি দুর্বলতারই প্রমাণ দেয়। আমরা মনে করি, দুর্নীতি দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এ মামলাটি হোক দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকারের দৃষ্টান্তমূলক কাজ।