advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিক্ষোভে উত্তাল হংকং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:৩৩
advertisement

একটি বিতর্কিত বিলের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন হংকংয়ে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। গতকাল সেটি সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনগুলোর চারপাশে জড়ো হয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে কার্যত গোটা শহর অচল হয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ বেপরোয়াভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। খবর বিবিসি।

বিতর্কিত ওই বিলে বলা হয়েছে, হংকংয়ে কোনো অপরাধে বিচারের জন্য অপরাধীকে চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রেরণ করতে হবে। এটিকে বহিঃসমর্পণ বিল নামে বর্ণনা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হাজর হাজার হংকংবাসী রাস্তায় নেমে আসে। বলা হচ্ছে, চীন থেকে হস্তান্তরের পর এই প্রথম এত সংখ্যক লোক প্রতিবাদে নেমেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল আন্দোলনকারীরা হংকংয়ের সরকারি দপ্তরগুলোর আশপাশের প্রধান প্রধান সড়কে অবস্থান নেওয়ায় শহরের অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থলটি অচল হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সকাল থেকে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের দপ্তরের কাছে পূর্ব-পশ্চিমমুখী লাং ইউও সড়কে ও এর আশপাশে জড়ো হয়েছেন। ভোররাত থেকেই হংকংয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য আসতে শুরু করে। শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ধর্মঘট শুরু করার প্রস্তুতি নিতে থাকে।

পরিস্থিতি সামলাতে হংকংয়ের ৭০ আসনবিশিষ্ট আইন পরিষদ বিতর্কিত এ বহিঃসমর্পণ বিল নিয়ে দ্বিতীয় দফার বিতর্ক স্থগিত করেছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে এ বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিতর্কের নতুন সময় সদস্যদের পরে জানিয়ে দেওয়া হবে, বলেছে আইন পরিষদ। আগামী সপ্তাহেই এ বিলটি নিয়ে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিংপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় আইন পরিষদে এটি সহজেই পাস হবে। লামের দপ্তরের চারপাশে কয়েকশ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তারা বিক্ষোভকারীদের ‘আর অগ্রসর না হতে’ বলেছে। এদিকে প্রস্তাবিত বিলটি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ প্রশমিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লাম। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন বিলটিতে অতিরিক্ত সংশোধনী এনে তাতে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করবে।

উল্লেখ্য, ২২ বছর আগে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের সময় যুক্তরাজ্য শহরটির স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা অটুট রাখার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিল। হংকংয়ের কারণেই চীনকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থাপনার’ নীতিতে চলতে হচ্ছে। যুক্তরাজ্যকে প্রতিশ্রুতি দিলেও নিজেদের ভূখ-ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই বেইজিং হংকংয়ের গণতান্ত্রিক সংস্কারে বাধা, স্থানীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও বিরোধীদের ওপর দমন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সমালোচকদের।

advertisement