advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

একই বৃত্তে ঘুরছে সংস্কৃতিতে বরাদ্দের হার

মঈন আবদুল্লাহ
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:২০
advertisement

সাত বছর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে জাতীয় বাজেট ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকার। সেখানে সংস্কৃতিতে বরাদ্দ ছিল ১ শতাংশের অনেক কম। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। তাতে সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দ হয় শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। ১৩ জুন ঘোষিত হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট।

আসন্ন বাজেটে সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দ নিয়ে চিন্তিত এই অঙ্গনের মানুষরা। তাদের অনেক দিনের দাবি, মোট বাজেটের ন্যূনতম ১ শতাংশ বরাদ্দ যেন সংস্কৃতির জন্য রাখা হয়। কেউ বলছেন, সেটি ২ শতাংশ হলে আরও ভালো হয়। কয়েক বছর ধরে সংস্কৃতির বাজেট অল্প অল্প করে বাড়ানো হচ্ছে। সেটি অন্য খাতগুলোর তুলনায় খুবই কম।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আটটি অর্থবছরের মধ্যে প্রতিবছরই সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশের নিচে ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দের হার বাড়ানোর দাবি থাকলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না। ফলে গুণগত মানের দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে সংস্কৃতিচর্চা আগের চেয়ে অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু গুণমান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ আছে। সংস্কৃতির মান বাড়াতে হলে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে কাজ করতে হবে। তাদের আশা, আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরের বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের হার বাড়বে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, দেশের মোট বাজেটের ১ শতাংশ যেন সংস্কৃতির জন্য রাখা হয়। জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা রুখতে যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হয়, তা হলে প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই।

এ জন্য সংস্কৃতি খাতের বাজেটটি একটু বড় হওয়া দরকার। একদিকে উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে মুক্তমঞ্চ থাকবে, যেখানে নিয়মিত নাটক, গান, নৃত্য ও আবৃত্তিচর্চা চলবে। প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মতো একটি জায়গা থাকবে, যেখানে সংস্কৃতিকর্মীরা মিলিত হবেন। সংস্কৃতিই একটি জাতির পরিচয়। তাই বাজেটে সংস্কৃতির ব্যাপারটি অধিকতর গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

তৃণমূল পর্যায় থেকে সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। ক্লাবগুলোকে সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো এসবের ফল পাওয়া যাবে না, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ লাভবান হবেই। আমাদের দেশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আছে ঠিকই, কিন্তু এর কর্মপরিধি সংকুচিত।

এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও বাংলা একাডেমির মূল কাজ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা। সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক শিল্পকলা একাডেমির। জেলা ছাড়াও এখন উপজেলায় এটি বিস্তৃত হচ্ছে। অনুষ্ঠান আয়োজন ও কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির অন্য কোনো কাজ নেই। কিন্তু শিল্পকলা বা অন্য একাডেমিগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে শিল্প-সাহিত্যকে উৎসাহিত করা।

মানুষকে প্রতারণা, দুর্নীতি থেকে দূরে রাখা এবং নীতিবান করে তোলার জন্য সংস্কৃতি বড় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে, বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর সবখানেই নিজের মতো করেই পরিচিত হচ্ছে, এটা ভালো। তবে আমাদের দেশের সংস্কৃতিকে আরও বেগমান করার জন্য বাজেটে সংস্কৃতির জন্য বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।

advertisement