advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘স্তালিন’ নাটক নিয়ে শিল্পকলায় তুলকালাম

চপল মাহমুদ
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:২৮
advertisement

নতুন মঞ্চনাটক ‘স্তালিন’ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে তুলকালাম। এতে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনেছে দর্শকের একটি অংশ। গত মঙ্গলবার রাতে জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটি দেখে নির্দেশক কামালউদ্দিন নীলুর ওপর চড়াও হন একদল দর্শক। নাটক শেষে তারা একযোগে প্রতিবাদ করেন। স্লোগান দেন নাট্যশালার করিডরে।

তাদের প্রশ্ন, স্তালিন কেন এত নিষ্ঠুর? কেন কাছের মানুষকেও হত্যা বা বন্দি করার নির্দেশে তিনি অবিচল? নাটকের বিরতির সময়ই প্রতিবাদ শুরু হয়। এ সময় নাট্যকার মামুনুর রশীদ বেরিয়ে যান। পরে নাটক শেষে তা প্রতিবাদে সেøাগান দেওয়া হয়। তার পর অন্তত ১৫ মিনিট চিৎকার ও স্লোগান চলে মিলনায়তনে এবং নাট্যশালার করিডরে। একপর্যায়ে থিয়েটার অঙ্গনের কয়েকজন কর্মীর হস্তক্ষেপে তা থামে। বুধবার বিকাল ৫টায় জাতীয় নাট্যশালার সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন প্রতিবাদকারীরা।

এ সময় তারা ‘সাম্রাজ্যবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান, সমাজতন্ত্রের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। জাতীয় নাট্যশালায় গত মঙ্গলবারের প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশীদ, মান্নান হীরা, শহিদুজ্জামান সেলিম, চন্দন রেজা, সুবচন নাট্যদলের প্রধান আহমেদ গিয়াসসহ অনেকে। আহমেদ গিয়াস বলেন, ‘নাট্যকর্মীদের জন্য নাটক বন্ধ হওয়া খুব কষ্টের। তবে আমি মনে করি, এর দায়ভার শিল্পকলা একাডেমিকে নিতে হবে। কেন এ ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ নাটক জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হবে। কেন দিনের পর দিন এ ধরনের দল বরাদ্দ পাবে।’ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘হল বরাদ্দের জন্য একটি কমিটি আছে, যে কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। মহাপরিচালকের কিছু করার থাকে না। আর কোন নাটক প্রদর্শিত হবে বা হবে না, সেটা আগে থেকে বাছাই করা মানে নিয়ন্ত্রণ করা। সেই নিয়ন্ত্রণ আমাদের কারওই কাম্য না। সবারই মত প্রকাশের অধিকার আছে।’

নির্দেশক কামালউদ্দিন নীলু বলেন, ‘আমি মনে করি, এটাই থিয়েটারের শক্তি, একটা শিল্প কতটা শক্তিশালী হলে এটা সম্ভব! আমি মনে করি, এটা নিয়ে এভাবে প্রতিবাদ না করে আলোচনা হতে পারত। নাটকের কোনো কিছুই বানানো বা আমার নিজের কল্পনাপ্রসূত না।’ নাটকটির পাণ্ডুলিপি তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সাইমন সিব্যাগ মন্টিফিওরের ‘স্তালিন : দ্য কোর্ট অব দ্য রেড জার’, অ্যালিলুয়েভার ‘অনলি ওয়ান ইয়ার’ ও ‘টোয়েন্টি লেটার্স টু আ ফ্রেন্ড’, ডেভিড পিনারের ‘দ্য টেডি বিয়ার্স পিকনিক’ এবং রোজমেরি সুলিভানের ‘স্তালিন্স ডটার’ থেকে। গত সোমবার সন্ধ্যায় সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার (সিএটি) মঞ্চে এনেছে ‘স্তালিন’। যেখানে স্তালিনকে দেখানো হয়েছে একজন গণনায়ক ও কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে।

নাটকে উঠে এসেছে এমন এক সময়ের গল্প, যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন ইয়োসেফ স্তালিন। নাটকের শুরুতে আইজেনস্টাইনের একটি সিনেমা দেখছিলেন স্তালিন। সেটি দেখার মাঝপথে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্তালিন তার পৈশাচিক আচরণ ও বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে সহকর্মীদের কাছ থেকে তো বটেই, পরিবারের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হওয়া ছেলেকে ফিরিয়ে আনার কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি স্তালিন।

advertisement