Paran Frooto
advertisement
Paran Frooto
advertisement
advertisement

অদম্য জোফরা আর্চার

এম.এম. মাসুক
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ০২:৫৪
advertisement

কথায় আছেÑ ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। ইচ্ছা একটি শক্তি। এ শক্তির দ্বারা চিত্তের একাগ্রতা, ধৈর্য ও সাধনার সৃষ্টি হয়; যা মানুষকে পৌঁছে দেয় অভীষ্ট লক্ষ্যে। ইংলিশ ফাস্ট বোলার জোফরা আর্চারের ক্ষেত্রে কথাগুলো প্রযোজ্য। তার জন্ম বার্বাডোজে। বাবা ইংলিশ আর মা বার্বাডিয়ান। ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন।

লোয়ার-মিডল অর্ডারের বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান হিসেবে নাম ছড়িয়েছিল তার। কিন্তু বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার সময় মারাত্মক ব্যাক ইনজুরিতে পড়েন আর্চার। এই ইনজুরির কারণেই বার্বাডোজের যে ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে ছিলেন সেখান থেকে ছিটকে যান। দেশের হয়ে খেলার যে বড় স্বপ্ন ছিল শুরুর পথেই কাঁটা! তবে দমে যাননি।

প্রচ- ইচ্ছাশক্তি ছিল তার। যে কারণে ইনজুরির সঙ্গে সংগ্রাম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেন। ব্রিটিশ পাসপোর্টের সুবিধা নিয়ে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। নতুন করে স্বপ্ন দেখেন ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্ব মাতাবেন। এ পথটাও সহজ ছিল না। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের বিপুল উৎসাহ ও সমর্থন ছিল পেছনে। তাতে এগিয়ে যান স্বপ্নের পথে। ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট দল সাসেক্সের দ্বিতীয় একাদশে প্রথম জায়গা করে নেন আর্চার।

অবিশ্বাস্য বোলিং প্রতিভা দেখিয়ে যেতে থাকেন। এর পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তর তর করে এগিয়ে যান সামনের দিকে। ইংলিশ ঘরোয়া ক্রিকেটে তার দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স আলোড়ন তোলে। ব্যাটিংয়েও কম যাননি। আট নম্বরে নেমে ৭২ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলে দৃষ্টি কাড়েন সবার। আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালস আট লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে এই মেধাবী ক্রিকেটারকে ভিড়ায়।

এর আগে বিগ ব্যাশেও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। বিভিন্ন লিগে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েও ইংল্যান্ডের নির্বাচকদের মন গলাতে পারছিলেন না আর্চার। তাকে ছাড়াই বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করে তারা। দল ঘোষণার পর এই প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কাউকে বাদ দিয়ে হলেও আর্চারকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়ার আহ্বান জানান সাবেক ক্রিকেটাররা।

অবশেষে ‘মূল্যবান রতœ’ আর্চার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান। এর পরের গল্পটা তো সবারই জানা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই আর্চার তার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে তিন ম্যাচ খেলে ৭ উইকেট শিকার করেন। দুই ম্যাচে ৩টি করে উইকেট নেন। তার পেস আর গতিময় বোলিং মুগ্ধ করছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। বিশ্বকাপে আর্চার এখন ‘এক্স ফ্যাক্টর’। ইংল্যান্ড পেস আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।

প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী। ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার মার্ক বুচার জানান, আর্চারের বোলিং নৈপুণ্য দেখে মনে হয় ৫০ থেকে ৬০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞ সে। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে মাত্র ৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন এই ফাস্ট বোলার। ইংল্যান্ড খুবই ভাগ্যবান এমন একজন কার্যকরী ও সময়োপযোগী বোলারকে পেয়ে। অনেক কিংবদন্তিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছেন আর্চার।

তিন থেকে চার বছর আগে টনটনে আর্চারের বোলিং প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন বুচার। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে এখনো শিরোপার খোঁজে ইংল্যান্ড। এবার টপ ফেভারিট তারা। ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে দলটি। এ দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিচ্ছেন আর্চার। তার পেসের সামনে ব্যাটসম্যানরা মাথা নত করবে- এমন প্রত্যাশা বুচারের।

advertisement