advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমরা এখন নির্ভার

মামুন হোসেন
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:২৬

২০২২ কাতার বিশ^কাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে বাংলাদেশ। প্রাক-বাছাইপর্বে লাওসকে ১-০ গোলে (দুই লেগ মিলে) হারিয়ে বাছাইপর্বের পরবর্তী ধাপে জায়গা করে নেয় জেমি ডের দল। লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে মানসিকভাবে বেশ চাপে ছিলেন খেলোয়াড়রা! দল জেতার এখন অনেকটাই নির্ভার হিমেল, রবিউল, সোহেল, বিপুলরা।

সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে ঘরে-বাইরে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। লাওস ম্যাচের কারণে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন ফুটবলাররা। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূর-প্রবাসে ঈদ উদযাপন করেন (ভিয়েনতিয়েনে) তারা। ঈদের পর দিনই লাওসের মাঠে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে দল। রবিউল হাসানের গোলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে দেশে ফেরে লাল-সবুজরা।

এর পর ঘরের মাঠে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (১১ জুন) ফিরতি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে। দল বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হওয়ায় সবাই বেশ খুশি। টিম ম্যানেজমেন্ট ২৫ হাজার ডলার অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে

শিগগির বোনাসের অর্থ খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রাক বাছাইয়ের হার্ডলস পেরুনো জেমির শিষ্যরা ম্যাচের পর খুব বেশি আনন্দ করার সময় পাননি। খেলার কারণে দীর্ঘদিন পরিবার ছেড়ে দূরে থাকায় ম্যাচের পর পরই হোটেল ছেড়ে যে যার মতো রাতেই বাড়ির পথ ধরেন। অনেকে তল্পীতল্পাসহ সকালে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে রাতের বিশেষ ডিনারে হিমেল-রবিউলরা কোচ-ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে মাতেন। বাংলাদেশের ফুটবলে কলঙ্কিত এক অধ্যায় ভুটানের কাছে এএফসি এশিয়ান কাপের প্রাক বাছাইয়ে হার।

২০১৬ সালের অক্টোবরের ঘটনা এটি। ওই হারে তিন বছরের জন্য ফিফা-এএফসির আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে নির্বাসিত হয় দল, যা এখনো বলবৎ। ভুটান বিপর্যয়ের পর ১৭ মাস মাঠেই ছিল না জাতীয় ফুটবলাররা। গত বছর মার্চে এ লাওসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আবারও মাঠের লড়াইয়ে ফেরে লাল-সবুজরা। কাকতালীয়ভাবে প্রাক-বাছাইপর্বে সেই লাওসকেই পায় বাংলাদেশ। পরিচিত প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এখন স্বস্তিতে খেলোয়াড়রা। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবল মাতাচ্ছেন গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম হিমেল।

লাওস বাধা জয় করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, লাওস ম্যাচটি ছিল আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটি হেরে গেলে আমাদের ফুটবল আরও তলানীতে চলে যেত। বলতে গেলে হারিয়ে যেত। আমরা সেটি হতে দেইনি। কোচ-ম্যানেজমেন্ট থেকে খেলোয়াড়রা সবাই এ ম্যাচ নিয়ে সতর্ক ছিলাম। জিততে পেরে সবাই খুব খুশি। সামনে আরও বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাতেও আমরা ভালো করব এ বিশ্বাস আছে। মিডফিল্ডার রবিউল হাসানের গোলই লাওস জয়ে ভূমিকা রেখেছে।

বাছাইপর্বের মূলপর্বে উত্তীর্ণ হতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত এ মিডফিল্ডার জানান, লাওসের মাঠে যেমন ভালো খেলেছে দল তেমনি ঘরের মাঠেও। এটা ঠিক ঘরের মাঠে আমরা বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করেছি। ম্যাচ জিততে হবে, কোনো মতে হারা যাবে না-এমন একটা চাপ ছিল। স্টেডিয়াম ঠাসা দর্শক-সমর্থক ছিল। চাপের কারণে হয় তো কিছু ভুল হয়েছে। তবে সেসব নিয়ে আমরা ভাবতে চাই না। আমরা পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরেছি তাতেই খুশি। লাওস ম্যাচে মাঝমাঠে দুর্দান্ত খেলেছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সোহেল রানাও। লাওস বাধা টপকাতে পেরে অত্যন্ত খুশি তিনি। জানান, অবশ্যই ভালো লাগছে। সবাই অনেক প্রেসারে ছিলাম। ম্যানেজমেন্ট-কোচের প্রেসার নয়; ভালো করতে হবে এ প্রেসার ছিল সবার মধ্যেই। লাওস বাধা টপকানোর আনন্দ আসলে ভাষায় প্রকাশের নয়।

সোহেল-রবিউলদের সুরে সুর মেলান বিপলু আহমেদও। তিনি জানান, ভুটান বিপর্যয়ের পর থেকে দেশের ফুটবল অনেক তলানীতে চলে গেছে। ফিফা-এএফসি নিষেধাজ্ঞা থেকে বহাল রয়েছি। লাওসকে হারাতে না পারলে নাকি চার বছরের জন্য ফিফা-এএফসি ম্যাচ থেকে বঞ্চিত হতাম এমনটাই শুনেছি। তবে সব কিছুর পর দল জেতায় এখন অনেক স্বস্তিবোধ করছি। এ জয় সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো খেলতে প্রেরণা জোগাবে। আমরা টানা তিন ম্যাচে হারিনি। এমন ঘটনা ফুটবলে অনেকদিন পর ঘটেছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।