advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশের পাঁচ কোটি মানুষের লিভার সমস্যায় ভুগছেন

ন্যাশ দিবসের সেমিনারে তথ্য

১৩ জুন ২০১৯ ০০:৫৮
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ০৯:৩৫
advertisement

লিভারের অন্যতম সমস্যা ন্যাশ বা ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ভুগছেন। সেই হিসাবে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষের লিভারে সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের মানুষের লিভারে ন্যাশ রয়েছে। ন্যাশ হচ্ছে লিভারে চর্বি জমার পর প্রদাহ সৃষ্টি হওয়া রোগ।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ন্যাশ দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দোপাধ্যায়, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, সাবেক সচিব মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের ফার্মাসিটিউক্যালস বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ফারুকসহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহাতাব স্বপ্নীল। তিনি বলেন, পাশ্চাত্যে ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ অ্যালকোহল পান। কিন্তু আমাদের মতো দেশগুলোয় মেদভুঁড়ি, ডায়াবেটিস, ডিজলিপিডেমিয়া বা রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ আর হাইপোথাইরয়েডিজমই ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ।

বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলোর মধ্যে হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস অনেক সময়ই ফ্যাটি লিভার সৃষ্টি করে থাকে। কর্টিকোস্টেরয়েড ও টেমোক্সিফেন ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ফ্যাট লিভার হতে পারে। এ ছাড়া খাদ্যাভাস, লাইফস্টাইল, আয়েশি জীবনযাপন, ভেজাল খাদ্য গ্রহণ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মেডিসিন গ্রহণ, অতিরিক্ত ফ্যাট বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার ও ফাস্টফুড গ্রহণের কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

ডা. মামুন আরও বলেন, ফ্যাটি লিভার রোগটি বিশ্বজনীন। সারাবিশ্বেই এর দেখা মেলে। তবে পশ্চিমা বিশ্বে এ রোগের প্রাদুর্ভাব খুবই বেশি। শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ আমেরিকান অ্যাডাল্ট এবং ১০ শতাংশ শিশু ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। জাপান ও ইতালিতে মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৫৮ শতাংশ ফ্যাটি লিভার রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ১৬ শতাংশ ফ্যাটি লিভার রয়েছে।

আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৩ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর ফ্যাটি লিভার রয়েছে। ভারতীয় ৪৯ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ লিভার সিরোসিস রোগী ফ্যাটি লিভার থেকে আক্রান্ত হয়েছে। ফ্যাটি লিভার থেকে একবার লিভার সিরোসিস হলে ১৫ শতাংশ রোগী ৭ বছরের মধ্যে আর ২৫ শতাংশ রোগী ১০ বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণের ঝুঁকিতে থাকেন।

ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো। এ জন্য শতভাগ কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃৃত হয়নি। তবে বাজারে এমন কিছু ওষুধ আছে, যা কিছুটা উপকারী বলে প্রমাণিত। এসব ওষুধের বেশিরভাগ বাংলাদেশে পাওয়া যায়। সঠিক সময়ে এ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিলে অনেকটাই নিরাময় করা সম্ভব।

advertisement
Evall
advertisement