advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ২৪৭ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:২৯

ঈদুল ফিতরের আগে-পরে গত ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ২১২টি দুর্ঘটনায় ২৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৬৪ জন। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

সংগঠনটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিএম কামরুল ইসলাম বলেন, এবারের ঈদে সরকারের সদিচ্ছা ও রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটি থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কিছুটা কমেছে। এর পরও ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৩০ মে থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরার সময় ১০ জুন পর্যন্ত গত ১২ দিনে ১৮৫টি দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত, ৬৫২ জন আহত ও ৩৭৫ জন পঙ্গু হয়েছেন।

advertisement

একই সময়ে নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। উল্লিখিত সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোট যানবাহনের ৬৩টি বাস, ৩৮টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রোবাস, ৩০টি নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৬৪টি মোটরসাইকেল, ২৬টি অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫১টি গাড়িচাপায়, ৮১টি সংঘর্ষ, ১৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, অন্যান্য কারণে ৩৪টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালকের হাতে দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন ভাড়া দেওয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী বহন, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন-করিমন, মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল এবং বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানোকে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া দুর্ঘটনা কমাতে ১০টি সুপারিশমালাও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। তার মধ্যে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা বন্ধে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা এবং রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।