advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্রিস্টলে রাজা রামমোহন!

মাইদুল আলম বাবু
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:৩০
advertisement

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে নারীসমাজের সমান অধিকার পেয়ে থাকে। কোনো কাজেই পুরুষ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। পারলে বরং সহযোগিতাই করে। রাশিয়ায় ৬ থেকে ৭টি শহর ঘুরে অভিজ্ঞতা হয়েছে-নারী সর্বত্র। রেল থেকে শুরু করে ব্যাংক, কারখানা, হোটেল, রেস্টুরেন্ট অথবা শপিংমলের সেলসের কাজেও নারী কাজ করে চলেছে। আমি মাঝে মাঝে অবাক হই।

আবার ভাবি অনুপাতে রাশিয়ায় পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি কিনা! আমাদের দেশে নারী অধিকার নিয়ে অনেক কথা হয়। আগের চেয়ে পরিস্থিতি একটু ভালো হয়েছে। আজ থেকে ১০০ বা ২০০ বছর আগে পরিস্থিতি আরও করুণ ছিল। তখন সতীদাহ, সহমরণসহ আরও অনেক ধর্মীয় শাসন ছিল। যেসব মেনে নেওয়া খুবই কঠিন ছিল।

রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম ১৭৭২ সালে। তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন ১৮৩৩ সালে। এর মাঝে অনেক মহৎ কাজ করে গেছেন। ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য আমি এ শহর থেকে ওই শহর ঘুরে বেড়াচ্ছি। সোয়েটার কিনব কিনব ভাবছি। বৃষ্টিও পথে বেশ বাগড়া দিচ্ছে। আমার রেইনকোর্ট নেই। এমন বৃষ্টি থেকে রক্ষায় রেইনকোর্টও দরকার। তাই ছুটে গেলাম কাউন্সিল ভবনের পাশে থাকা সিটি সেন্টারে। সেখানে কাউন্সিল অফিসটি বেশ সুন্দর।

পাশ দিয়ে হেঁটে সিটি সেন্টার খুঁজছিলাম। এমন সময় দেখলাম এক পাথুরে ভদ্রলোক পাগড়ী পরে দাঁড়িয়ে! সারাজীবন এ ছবি বই বা সিনেমায় দেখেছি। তাই চিনতে খুব বেশি অসুবিধা হলো না। তিনি বিখ্যাত রাজা রামমোহন রায়। এ ব্রিস্টলে এসেছিলেন। ১৮৩৩ সালে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১৯৯৭ সালে এ মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। সারাজীবন মানবজাতির উন্নতির কথা চিন্তা করে গিয়েছিলেন এ সমাজ সংস্কারক। বাঙালিও অবশ্য তাকে মনে রেখেছে শ্রদ্ধা ভরে।

স্থানীয় একজন দাবি করলেন, রামমোহন রায় এখানে বিয়েও করেছিলেন। অবশ্য আমি এর সত্যাসত্য জানি না। এমন অনেক কথাই প্রচলিত থাকে। তিনি তো আর নেই। তাই সত্য-মিথ্যা জানার উপায় নেই। ব্রিস্টলের আর্নস ভেলে রয়েছে তার সমাধি। মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল।

কর্মজীবনের কারণে কোথায় কোথায় ঘুরে মরি। কখন কোথায় যে অন্তিম শয়ানে চলে যেতে হবে কে বলতে পারে। মূর্তিটা দেখলাম। প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছি। একেবারেই জানতাম না রাজা রামমোহন রায় এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। টনটন যেতে হবে। তাই আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। জানা যায় ১৮৩০ সালে তিনি বিলেতে এসেছিলেন।

advertisement