advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অবশেষে মুক্তি মিলছে সজলের ওসিকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী
১৩ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১০:৩১

রাজশাহীতে ‘বড় ভাইয়ের বদলে’ গ্রেপ্তার হওয়া ডাব বিক্রেতা সজল মিয়াকে (৩৪) দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামি না হয়েও কেন যাবজ্জীবন কারাদ- পাওয়া আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তার জবাব দিতে শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনসুর আলম এ আদেশ দেন।

আদেশ অনুযায়ী, ওসিকে সাত দিনের মধ্যে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সজল নগরীর ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লার তোফাজ উদ্দিনের ছেলে। তার বড় ভাইয়ের নাম সেলিম ওরফে ফজল।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় ২০০৯ সালে ফজলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। রায় ঘোষণার আগে থেকেই তিনি পলাতক। এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল শাহমখদুম থানাপুলিশ সজলকে গ্রেপ্তার করে। এর পর ফজল হিসেবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর গতকাল তিনি অব্যাহতি পেলেন।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০১ সালে আসামি ফজলের বয়স ছিল ২৭ বছর। বর্তমানে ৪৫ বছর। কিন্তু সজলের জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৩৫ বছর। এ ছাড়া আসামি ফজল মামলার রায়ের আগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন তার শারীরিক গঠন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে সংরক্ষণ করা হয়। এখন আবার পর্যাবেক্ষণ করে দেখা যায়, গ্রেপ্তার সজলের সঙ্গে সে বর্ণনার উল্লেখযোগ্য তারতম্য রয়েছে। পুলিশ ভুল করেই তাকে ফজল ভেবে গ্রেপ্তার করেছে।

সজলের আইনজীবী মোহন কুমার সাহা বলেন, ‘অপরাধী না হয়েও সজল কয়েদি হিসেবে সাজা ভোগ করেছেন। তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। ওসির শোকজের জবাব পাওয়ার পর আদালত এ ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটির জন্য আমরা অপেক্ষা করব। তার পর প্রয়োজনে মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা ভুক্তভোগী সজলের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি করে আদালতে আবেদন করব।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর জন্য ওসির শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু এখানে দুজন সাক্ষী ওসিকে এফিডেভিট করে দিয়ে বলেছিলেন, এটাই আসামি। তাই ওসির জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তার পর আদালতই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।’

আদালতের আদেশের পর তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেই নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত থেকে আদেশের অনুলিপি সেখানে পাঠানো হবে। এর পর কারা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখবে যে, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা। তা না থাকলে সজলকে মুক্তি দেওয়া হবে।