advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মোবাইলে উচ্চস্বরে কথা বলতে নিষেধ করায় চুন্নুকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুন ২০১৯ ১৩:১৯ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১৫:৩৪

গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার চাঞ্চল্যকর চুন্নু ভূঁইয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিন্টু মোল্লাকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১। তাকে গ্রেপ্তারের পর এই হত্যার তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে। মোবাইলে উচ্চস্বরে কথা বলতে নিষেধ করায় কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে চুন্নু ভূঁইয়াকে হত্যা করা হয়েছিল বলে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মিন্টু। 

গতকাল বুধবার রাতে র‌্যাব-১ এর টানা চারদিনের অভিযান শেষে মিন্টু মোল্লাকে রাজধানীর শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম এসব তথ্য জানিয়েছেন।  তিনি জানান, গত ৯ জুন রাত ১২টার দিকে আরিচপুর এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান খান জুয়েল তার নিজ বাসায় পরিবারের সদস্য এবং ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে আসা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। এ সময় তার বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে মোবাইলে উচ্চস্বরে অশ্লীল ভাষায় কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলেন মিন্টু মোল্লা। তখন আতাউর রহমান তার বাসার বারান্দা থেকে মিন্টু মোল্লাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে নিষেধ করেন। এতে মিন্টু মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর আতাউর রহমান তার বাসায় বেড়াতে আসা শালক চুন্নু ভূঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাসার নিচে নামেন। এরপর গালিগালাজের কারণ মিন্টু মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলে সে উত্তেজিত হয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এক পর্যায়ে তার প্যান্টের পকেট থেকে একটি ছুরি বের করে চুন্নু ভূঁইয়ার বুকে ও পিঠে ঢুকিয়ে দেয়।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক আরও জানান, এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হয়আতাউর রহমানও। পরে দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চুন্নু ভূঁইয়া মারা যায়। এই ঘটনার পর টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-১। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় টানা চারদিন অভিযান শেষে ১২ জুন তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

গ্রেপ্তার হওয়া আসামির জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, মিন্টু মোল্লা দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত সৌদি আরবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে ছুটি কাটাতে তিনি দেশে এসেছেন। তিনি একজন ধূমপায়ী হওয়ায় ম্যাচলাইট সাদৃশ্য একটি ছুরি সবসময় সঙ্গে রাখেন। যা দিয়েই চুন্নুকে হত্যা করা হয়।