advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘এই বাজেট অনেকটা খাবার ছাড়া খাবারের প্লেট সাজানোর মতোই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুন ২০১৯ ১৭:৩১ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১৭:৩১
পুরোনো ছবি

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘এই বাজেট অনেকটা খাবার ছাড়া খাবারের প্লেট সাজানোর মতোই। প্রস্তাবিত বাজেট আয় বৃদ্ধির সামর্থ্য ছাড়া প্রবলভাবে ব্যয়আকাঙ্ক্ষী। এই কারণে বাজেটের পরিমাণ দেখে আনন্দিত হবার কিছু নেই।’

আজ বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

advertisement

সাইফুল হক বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও বাজেট বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেই। এক লক্ষ ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো যে বাজেট ঘাটতি দেখা দেবে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা টানতে হবে জনগণকে। বাজেট প্রস্তাবনায় রাজস্ব আহরণে এনবিআরসহ সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, আর্থিক খাতের চরম নাজুক পরিস্থিতি, বিনিয়োগে ঘাটতি ও অনুৎসাহ, নানা পন্থায় বেশুমার অর্থপাচার প্রভৃতি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর স্পষ্ট কোনো স্বীকারোক্তি নেই। করের আওতা বৃদ্ধি করার ব্যাপারেও কার্যকরি পদক্ষেপ নেই।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবনা উদ্বেগজনক। অনুন্নয়ন ব্যয় যেখানে তিন লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে উন্নয়ন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে দুই লক্ষ ১২ হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া এই উন্নয়ন ব্যয়ের মান নিয়ে যে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে বাজেট বক্তৃতায় তার কোনো পর্যালোচনা বা আত্মসমালোচনা নেই। অর্থবছরের শেষে যেভাবে প্রকল্প শেষ করতে তড়িঘড়ি করে অর্থব্যয় করা হয় তা অনেক ক্ষেত্রে অপচয়ের নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়। বস্তুত এডিপি বাস্তবায়ন হয় মাত্র তিন মাসে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ, অব্যবস্থাপনা, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চুরি, দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ভীত নজিরবিহীনভাবে যেভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এই ব্যাপারে বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রীর কোনো উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিদ্যমান চরম নৈরাজ্য রোধেও অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’

বাজেট প্রস্তাবনা সম্পর্কে সাইফুল হক বলেন, ‘শিল্প কৃষির মতো উৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। বন্ধ কলকারখানা চালু ও নতুন শিল্পোদ্যোগে বরাদ্দ আশানুরূপ নয়। উৎপাদক চাষীকে লোকসান পোষাতে মাথা প্রতি প্রণোদনা অর্থ প্রদানের দাবি বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাজেটে বরাদ্দ অপ্রতুল। মোট সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বরাদ্দও তেমন বাড়েনি। এই খাতে আনুপাতিক বরাদ্দ নেপাল ও ভুটানের চেয়েও কম।’

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাজেট প্রস্তাবনায় স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির কোনো খবর নেই। বাজেটের উন্নয়ন দর্শন ধনী ও বিত্তবানদেরকে আরও সম্পদশালী করবে এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় আরও কমে যাবে। লুটেরা পুঁজিপতিবান্ধব এই বাজেট সমাজে অর্থ ও সম্পদের আরও পুঞ্জিভবন ঘটাবে, ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলবে।’

সাইফুল হক ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন, ‘বাজেট প্রণয়ন ও বাজেট সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি আমলাতান্ত্রিক ও অস্বচ্ছ। এ কারণে বাজেট ঘোষণার পর এ নিয়ে যত আলোচনা, সমালোচনা, প্রস্তাবনা বাজেট পাশে সময় তার সবই নিরর্থক হয়ে যায়।’ তিনি বাজেট প্রণয়ন, বাজেট গ্রহণ, সংশোধনসহ বাজেট প্রণয়নের বিদ্যমান সমগ্র প্রক্রিয়া পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

প্রস্তাবিত বাজেট দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি এই বাজেট প্রত্যাখান করেন।