advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুন ২০১৯ ১৮:৪১ | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯ ১৮:৪১
advertisement

দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৈষম্য কমাতে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রের আলোকে প্রতিবছরের মতো এবারও উপকারভোগী বাড়িয়েছে সরকার। নতুন করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ১৪ লাখ উপকারভোগী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসছে।

এ খাতে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯-২০ সালের বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এবার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪০ লাখ থেকে ৪৪ লাখে উন্নীত করছে সরকার। নতুন এ বাজেটে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাভোগী নারীর সংখ্যা ১৪ লাখ থেকে ১৭ লাখে উন্নীত হবে। সব অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যে ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ ৪৫ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নতুন করে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার সুবিধাভোগী বাড়বে।

সরকারপ্রধান জানান, প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া এবারের বাজেটে উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৭৫০টাকা থেকে ৮০০টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা জানান, সব হিজড়াকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আতওতায় এনে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করতে উপকারভোগীর সংখ্যা ছয় হাজার জনে উন্নীত করা হবে। বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার থেকে ৮৪ হাজারে বৃদ্ধি করবে সরকার। এবারের বাজেটে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা জানান, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংক্যা ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে সরকার। দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা সাত লাখ থেকে সাত লাখ ৭০ হাজার জনে উন্নীত করবে সরকার। কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তার আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা দুই লাখ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ ৭৫ হাজারে বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে এবারের বাজেটে।

শেখ হাসিনা আরও জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশে সব কর্মসূচির এমআইএস এবং উপকারভোগীর তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত এবং ভাতাভোগীদের কাছে সরাসরি কোষাগার থেকে জি টু পি পদ্ধতিতে অর্থ প্রেরণ করা হচ্ছে।

অসুস্থতা নিয়েই আজ জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বাজেট উত্থাপন শুরু করার কিছুক্ষণ পর অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাজেট উত্থাপনের অনুরোধ জানান। পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাজেট উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।  

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। এবারের বাজেট দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট।

advertisement