advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ নাকচ করলেন ট্যাংকার মালিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ জুন ২০১৯ ১২:৫৭ | আপডেট: ১৫ জুন ২০১৯ ১২:৫৭
advertisement

ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযোগ তেহরান বারবার অস্বীকার করলেও তা মানতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন। এবার দুদেশের বাকযুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে উড়িয়ে দিলেন তেল ট্যাংকারের মালিক।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নরওয়ে ও জাপানের তেল ট্যাংকার দুটির মধ্যে জাপানি ট্যাংকারের মালিক ইউতাকা কাতাদা।  গতকাল ‘কোকুকা সাঙ্গিও’ কোম্পানির প্রেসিডেন্ট কাতাদা টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জাহাজের পাশে লাগিয়ে দেওয়া কোনো টাইম বোমা বা মাইনের মাধ্যমে এ হামলা চালানো হয়নি। আকাশ থেকে ছুটে আসা ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজে আঘাত হেনেছে।’

হামলার শিকার তেল ট্যাংকারের ছবি দেখিয়ে জাপানি মালিক আরও বলেন, জাহাজের অনেক উপরের দিকে হামলা হয়েছে। কাজেই গানবোট থেকে পাতানো মাইন বা টর্পেডোর মাধ্যমে এ হামলা হতে পারে না।

সম্মেলনে তিনি আরও জানান, তার তেল ট্যাংকারের নাবিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, আকাশ থেকে কোনো কিছু ওই ট্যাংকারে প্রথমবার আঘাত হানার পর জাহাজের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাদের উপস্থিতিতেই আকাশ থেকে দ্বিতীয়বার জাহাজে আঘাত হানা হয়।

এদিকে তেল ট্যাংকারের হামলার জন্য ইরানই দায়ী বলে একের পর এক তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এক ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, হামলার শিকার তেল ট্যাংকার থেকে একটি অবিস্ফোরিত মাইন সরিয়ে নিয়েছে ইরানি নৌসেনারা।  মার্কিন সরকার আরও দাবি করেছে, গানবোট থেকে জাহাজের গায়ে বসিয়ে দেওয়া মাইনের মাধ্যমে ওই হামলা চালানো হয়েছে।

শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি এই হামলার পেছনে ইরান দায়ী থাকে, অবশ্যই দায়ী। কেননা আপনারা তার প্রমাণ দেখছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে তাহলে এটি বেশি দিন বন্ধ করে রাখতে পারবে না। ইরানের দায়ী থাকার সব প্রমাণ আছে মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে।’

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী হচ্ছে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রধান রুট। ইরানের অর্থনীতির জন্য এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের মোট রপ্তানি আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ আসে জ্বালানি তেল রপ্তানির মাধ্যমে। ২০১৭ সালে ইরান ৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের তেল রপ্তানি করেছে। ইরানের ওপর আমেরিকা নতুন করে যে অবরোধ দিয়েছে তাতে তেল রপ্তানিতে দেশটির বেশ ভাটা পড়েছে।

ইরান বলেছে, তাদের তেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র যদি বাধা দেয়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কোনো তেল রপ্তানি করা যাবে না। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যত তেল পরিবহন করা হয় তার সবটাই বন্ধ করে দেবে তারা।

advertisement