advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যাংক নির্ভরশীলতা কমানো প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯ ০১:৫৬
advertisement

নতুন বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড এবং অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল টুলসের ওপর জোর দিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

জাতীয় বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এ আহ্বান জানান।

এফবিসিসিআই বলছে, এবারের বাজেটে কমবেশি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ঘাটতি থাকতে পারে। ফলে এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলে বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রবাহ কমতে পারে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্রের বিক্রি না বাড়িয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করবে।

তাতে পুরোপুরি সফল না হলে আবারও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হতে পারে। আর বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার আগামী অর্থবছর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে শুধু ব্যাংক খাত থেকে সংগ্রহ করবে ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।

লিখিত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফাহিম বলেন, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আরঅ্যান্ডডি, ইনোভেশন ও আইসিটি, অবকাঠামো, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় এ বাজেট যুগোপযোগী। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ব্যক্তি, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, চা শ্রমিকসহ সব উপকারভোগীর সংখ্যা এবং আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করারও জনবান্ধব বিষয়।

আর যুবকদের মধ্যে ব্যবসার উদ্যোগ সৃষ্টির জন্য বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। মানসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে। এসব অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ আরও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা শিল্প খাতের বিকাশকে উৎসাহিত করবে। তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান এবং হ্রাসকৃত করহার বহালের সিদ্ধান্তও রপ্তানি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ সহায়ক হবে। কালোটাকার বিষয়ে এক প্রশ্নে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাজেটে কালোটাকার কথা বলা নেই, সেখানে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে যাবে। আমরা চাই ইনফরমাল ইকোনমি ফরমাল ইকোনমিতে আসুক।

অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস যেহেতু সঠিক আছে, সেহেতু আমরা প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। মূসকের একাধিক হার নির্ধারণ, নারী উদ্যোক্তাসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতিসহ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য ৫০ লাখ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত মূসক অব্যাহতি এবং এসএমই খাতকে উৎসাহ প্রদানে ৫০ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভার নির্ধারণ করার এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাবনাগুলো মূল্যায়ন করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ ফাহিম।

তিনি বলেন, এসএমই খাতকে ফরমাল ইকোনমিতে নিয়ে আসার লক্ষ্যে রেয়াতি সুবিধাসহ মাল্টিপল রেট করার জন্য আমরা প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু শুধু ১৫ শতাংশ হারের ক্ষেত্রেই রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যদি সব হারের ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়, তা হলে তা এসএমই খাত বিকাশে সহায়ক হবে।

advertisement