advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোগীর সেবা নিশ্চিতে জরুরি আন্তরিকতা -ডা. দেবী প্রসাদ শেঠী

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৬ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ জুন ২০১৯ ০৮:৪৪
advertisement

চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে যেন বিদেশে না যেতে হয় সে জন্য দেশে আরও ক্যানসার ও হৃদরোগবিষয়ক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ভারতের নারায়না হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. দেবী প্রসাদ শেঠী। তিনি বলেন, ভারতের কোনো রোগী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেন না। কারণ ভারতে পর্যাপ্ত হাসপাতাল আছে। কিন্তু বাংলাদেশের রোগীরা ভারত থেকে শুরু করে লন্ডনে গিয়েও চিকিৎসা নেন।

গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় নতুন প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি ইমপেরিয়াল হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দেবী শেঠী বলেন, খুব ভালো ও আধুনিক যন্ত্রপাতি রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারে না। এর জন্য দরকার দক্ষ চিকিৎসক দল ও রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকের মানসিকতা, আন্তরিকতা।

ভারত ও বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দৃষ্টি প্রসারিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিউবা ও ফিলিপাইন প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চিকিৎসক বিদেশে পাঠায়। তাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এটি অন্যতম প্রধান উৎস। আমরাও কারও চেয়ে কম নই-এটা আমাদের সবার আগে বুঝতে হবে। স্রষ্টা সবাইকে সমান যোগ্যতা দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। আর আমরা বৈষম্য তৈরি করছি। ভারতে প্রতিবছর ৩৬ লাখ শিশু জন্ম নেয়। বাংলাদেশে প্রতিদিন জন্ম নেয় ৮২০০ শিশু। এরা আমাদের বড় শক্তি।

চট্টগ্রামে নতুন প্রতিষ্ঠিত ইমপেরিয়াল হাসপাতালে সময় সুযোগ অনুযায়ী রোগী দেখা ও অস্ত্রোপচারের ইচ্ছা প্রকাশ করে দেবী শেঠী বলেন, আমি চাই বাংলাদেশ থেকে একটি রোগীও যেন ভারত কিংবা অন্য কোনো দেশে গিয়ে চিকিৎসা না নেন। সে জন্য দক্ষ চিকিৎসক গড়ে তুলতে হবে। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় রোগীদের তিনি কিছু সাধারণ টিপসও দেন।

দেবী শেঠী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের লোকজন রোগাক্রান্ত হওয়ার পরই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তার আগে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা খুব কম লোকেই নেন। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি ৩০ বছর পার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে রক্ত পরীক্ষা ও সিটি স্ক্যান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি ইউরোপ আমেরিকার মানুষের চেয়ে তিন গুণ বেশি। আর ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি ২০ শতাংশ।

নিজের প্রতিষ্ঠিত নারায়না হাসপাতালের সাফল্যের কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নারায়না হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে গরিব রোগীদের জন্য। তবে সেখানে ধনীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাধারণত হাসপাতালগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয় ধনীদের জন্য। সেখানে গরিবদেরও কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ইমপেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড চেয়ারম্যান ডা. রবিউল হোসেন বলেন, নতুন এই ক্লিনিকে ৬৪ শয্যার ‘ইমপেরিয়াল-নারায়না কার্ডিয়াক সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তিনি বলেন, সাত একর জমির ওপর পাঁচটি ভবন নিয়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুটের হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৩৭৫ শয্যার এ হাসপাতালে হৃদরোগ, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস্ সংবলিত ১৪টি মডিউরার অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হয়েছে। নবজাতকদের জন্য রয়েছে ৪৪ শয্যার নিউনেটাল ইউনিট ও আটটি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ।

advertisement