advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সীমান্তে অনাকাক্সিক্ষত ‘মৃত্যু’ হচ্ছে -বিএসএফ মহাপরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ জুন ২০১৯ ০৮:৪৫
advertisement

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কোনো হত্যাকা- নয়, অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্র। গতকাল রাজধানীর পিলখানায় দুই দেশের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রজনীকান্ত মিশ্র বলেন, যখন কোনো বিকল্প থাকে না, প্রাণ বাঁচাতে বিএসএফ তখন প্রতিহত করে শুধু। মানুষের জীবন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবকটি ঘটনাই ভারতীয় ভূমিতে ঘটেছে, আর তাতে বিএসএফ সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফ সদস্যরা এক বাংলাদেশি যুবকের গায়ে পেট্রল ঢেলে হত্যা চেষ্টা চালায়। সাংবাদিকরা এ অভিযোগ তুলে ধরলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

বিএসএফ প্রধান বলেন, মানুষের জীবন আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সীমান্তে মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিএসএফকে এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মাঝে মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুর্বৃত্তরা বিএসএফের ওপর পাথর ছুড়েছে, লাঠিপেটা করেছে, কখনো দা দিয়ে হামলা করেছে। কোনো বিকল্প না থাকায় প্রাণ বাঁচাতে খুব অল্প কিছু ঘটনায় বিএসএফ মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ড ও মেহেরপুরে আম পাড়তে গিয়ে এক বালক বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার পর বিচার হয়েছে কিনাÑ তা জানতে চাওয়া হলে বিএসএফ মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্র বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে এ বিষয়গুলোর প্রতি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত বছর ভারতীয় ভূমিতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, ছয়জন ভারতীয়। একজন জওয়ান মারা গেছেন, ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এ বছরও তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা প্রতিটি ঘটনায় নিয়মমাফিক থানায় মামলা করেছেন এবং তদন্ত করেছেন। ভারতীয় ভূমিতে দুর্বৃত্তদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিজিবি ও বিএসএফকে সীমান্তের যেসব জায়গা দুর্বল, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এতে করে অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটবে না। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকা-ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজিবি মহাপরিচালক মো. সাফিনুল ইসলাম ‘হত্যাকা-’ শব্দটি এড়িয়ে বলেন, বিএসএফের মহাপরিচালক সবই বলে ফেলেছেন। তারা তিন দিনব্যাপী বৈঠকে সীমান্তে ‘মৃত্যু’ নিয়ে কথা বলেছেন এবং এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কিছু বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। দুপক্ষ মাদকদ্রব্য চোরাচালান, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান ও নকল টাকা রোধ নিয়ে আলোচনা করেছে। দুটি বাহিনীর কেউ যেন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করে, সে ব্যাপারেও কথাবার্তা হয়েছে। ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদার করতে বিএসএফ দিল্লি থেকে একটি মোটরসাইকেল র‌্যালি নিয়ে চলতি বছরের ২০ ডিসেম্বর বিজিবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকায় পৌঁছবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন করে আবারও ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি নিয়ে আলোচনা হয় যৌথ বৈঠকে।

ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশ এ ধরনের সব ঘাঁটি নির্মূল করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে এবং এতে তারা সন্তুষ্ট। পিলখানার বিজিবি-বিএসএফের মধ্যকার ৪৮তম সম্মেলন এটি। এতে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

advertisement