advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাতুড়ে ডাক্তার কর্তৃক 'সুচিকিৎসা' করা 'মামা বাড়ীর আবদার'

মো. আবদুল আলীম
১৬ জুন ২০১৯ ০১:১২ | আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯ ০১:১২
advertisement

নাগরিকগণের মানসম্মত বিচারপ্রাপ্তির অধিকার, আইনের শাসন ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি বনাম নির্বাহী বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতার লিপ্সা কিংবা হাতুড়ে ডাক্তার কর্তৃক 'সুচিকিৎসা' করার 'মামা বাড়ীর আবদার'।

একটি রাষ্ট্রে আইনের শাসন (Rule of Law) এর অন্যতম মৌলিক পূর্বশর্ত হচ্ছে কারো সেচ্ছাচারিতামূলক ক্ষমতা থাকবে না এবং সবাই আইনের মাধ্যমে সমভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে ( Ref. A.V. Dicey) । এই জন্যেই পন্ডিতজনেরা (যেমন: এরিস্টটল, পলিবাস, জন লক, ইমান্যুয়েল কান্ট, মন্টেস্কু) ক্ষমতার পৃথকীকরণ (Separation of Powers) নীতির উদ্ভব ও বিকাশ সাধন করেছেন যেন একটি রাষ্ট্রে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে বা সেচ্ছাচারী ক্ষমতাবান হতে না পারে।

ক্ষমতার পৃথকীকরণ বা Separation of Powers নীতির মূল কথা হচ্ছে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সরকার - এর ক্ষমতার তিনটা দিক, যথাঃ- আইন প্রনয়ণ, আইন বাস্তবায়ন, ও বিচারকার্য- ৩ টি আলাদা প্রতিষ্ঠান বা বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে, এবং এই তিনটি প্রতিষ্ঠান বা বিভাগ একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ (Transgression) বা নাক গলাবে (Inteference) না, বরং একে অপরের এখতিয়ারাধীন বিষয়ে সম্মান ও সহযোগীতা প্রদর্শন করে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যানে কাজ করবে।

বাংলাদেশ সংবিধান এই ৩ ধরনের রাষ্ট্রীয় বা সরকারী ক্ষমতাকে ৩ টি বিভাগকে ভাগ করে দিয়েছে যথা- ক. আইন প্রনয়ন করবে আইন বিভাগ (যেমন: জাতীয় সংসদ বা সংসদ থেকে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্য কোনো স্থানীয় বা জাতীয় বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান যেমন- সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি; এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি (অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে)- বাংলাদেশ সংবিধান: অনুচ্ছেদ ৬৫ - ৯৩।)

খ. আইন বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রের নির্বাহী কাজ করবে নির্বাহী বা শাসন বিভাগ (মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভা, মন্ত্রীপরিষদ, বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ- যেমন পুলিশ ক্যাডার, প্রশাসন ক্যাডার- বিভিন্ন স্তরের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলার ডি.সি. এ.ডি.সি. ইউ.এন.ও, এ.সি.(ল্যান্ড) / নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট; স্বাস্থ ক্যাডার ইত্যাদি। (বাংলাদেশ সংবিধান: অনুচ্ছেদ ৪৮ - ৬৪ , ও ১৩৩ - ১৪১) মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিবৃন্দ ও অধস্তন আাদালতের মাননীয় জজ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটবৃন্দ ব্যতিত অন্যান্য সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীও সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ।

গ. বিচার করবে বিচার বিভাগ ( যথা- সুপ্রীম কোর্ট ও তার অধস্তন আাদালতগুলো সংশ্লিষ্ট মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি ও অধস্তন আদালতের মাননীয় জজ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে) বাংলাদেশ সংবিধান: অনুচ্ছেদ ৯৪-১১৭)। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধান ও রাষ্ট্রের অন্যান্য আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে ক্ষমা প্রদর্শন ও অন্যান্যভাবে বিচার কার্যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হিসেবে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের সংবিধান (বিশেষত প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ নং - ৭, ২২, ২৭, ২৮ ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৯৪-১১৭)

সুপ্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি,জাতিসংঘের বিচারিক নীতিমালা, কমন ওয়েল্থ ল্যাটিমার হাউস প্রিন্সিপল্স; ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ে মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা সমূহ বলছে - নির্বাহী বিভাগ কর্তৃক বিচারিক দায়িত্ব পালন আমাদের সংবিধান, ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি , বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তাই ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ থেকে নির্বাহী বিভাগকে আলাদা করে স্বাধীন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে তার উপর সংবিধান প্রদত্ত ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠার কাজ করছে, যেমনটা সারা বিশ্বে করা হয়ে থাকে।

নির্বাহী / প্রশাসন বিভাগ অর্থাৎ বর্তমানে প্রচলিত বি.সি.এস. কর্মকর্তাবৃন্দ: বিশেষত বি.সি.এস. প্রশাসন ক্যাডার - যেমন এ.সি. (ল্যান্ড) / ইউ. এন. ও. /এ. ডি.সি./ ডি.সি./ কমিশনার সহ অন্যদের দ্বারা নিখাদ বিচারিক কাজ পরিচালনা করলে বাংলাদেশে রাষ্ট্রের এবং সরকার ও জনগনের কমপক্ষে নিম্নোক্ত ক্ষতি সমূহ নিশ্চিতভাবে সাধিত হবে।

১. যে বা যারা শাসন করে (অর্থ্যাৎ নির্বাহী বিভাগ - ডি.সি. / ইউ. এন.ও./ এ.সি. ল্যান্ড) তারাই আবার বিচার করবে! ফলে শাসিত জনগন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। আর সর্বজনগ্রাহ্য "প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার" (Natural Justice) এর অন্যতম মূলনীতি - " কেউ নিজে নিজের কাজের বিচারক হবে না" - এর গুরুতর লঙ্ঘন হবে যখন নির্বাহী / শাসন বিভাগ নিজেই শাসিত জনগনের বিচার করবে।

২. মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে কষ্টার্জিত সংবিধান "আইনের শাসন" ও "ক্ষমতার পৃথকীকরণ " এর যে সুমহান লক্ষ্য নিয়ে পথ চলা শুরু করেছিল তা থমকে যাবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের স্বকীয়তা ও কার্যকারিতা হারাবে; এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র কতটুকু সফল ও সভ্য হবে তা অনিশ্চিত থেকে যাবে।

৩. মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের "মাসদার হোসেন মামলা" তে প্রদত্ত রায় ও নির্দেশনা সমূহের লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননা। বর্ণিত মামলায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের রায় বলছে, প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্মকর্তা কেউ প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেনা।

৪. বিচারিক দায়িত্ব পালনকালে নির্বাহী বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না কেননা তাঁরা সরাসরি মন্ত্রীসভা, মন্ত্রণালয় ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের অধিনস্ত ও দায়বদ্ধ। স্বাধীনতা না থাকলে কীভাবে ন্যায়বিচার সম্ভব?

৫. আইন বিষয়ে দক্ষতার জন্যে প্রয়োজন আইন বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যেমন -স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী। অথচ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ আইনের মৌলিক বিষয় সমূহ যেমন - ফোজদারী বিচার পদ্ধতির খুটিনাটি , সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিশ্লেষণ , অপরাধ বিজ্ঞান, আইন বিজ্ঞান, দেওয়ানি বিচার পদ্ধতি, শাস্তি বিষয়ক তত্ত্বসমূহ, ন্যায়বিচার, ব্যতিক্রমী অবস্থাসমূহ, জটিল কিন্তু প্রয়োজনীয় আইনি বিধান ও তত্ত্বসমূহ ইত্যাদি অনেক কিছুই জানেন না বা জানা সম্ভব ছিলনা তাঁদের ছাত্রজীবনেও, কেননা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের গুটিকয়েক ( আনুমানিক সর্বোচ্চ ২ শতাংশ) কর্মকর্তা আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, বাকিরা (আনুমানিক প্রায় ৯৮ শতাংশ) অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তীকালে নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের চাকরীজীবনে স্বল্প মেয়াদী আইনি প্রশিক্ষণও তাঁদেরকে একজন উচ্চশিক্ষিত আইনের ছাত্রের ন্যায় বিচারিক ক্ষেত্রে সমযোগ্যতা সম্পন্ন করে না এবং তা করা সম্ভবও নয় বর্তমান প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।

কাজেই আদালতের মামলা মোকদ্দমা সংক্রান্ত আইন বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ মূলত অনভিজ্ঞ এবং আইনি জ্ঞানে তাঁরা স্বভাবতই তেমন সমৃদ্ধ নন। বিসিএস ক্যাডার বিশেষতঃ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাবৃন্দ ( ডি.সি./ ইউ. এন.ও./ এ.সি. ল্যান্ড গণ) কর্তৃক মামলা, মোকদ্দমার বিচার করা আর হাতুড়ে ডাক্তারের মাধ্যমে গুরুতর সার্জারী করা একই কথা, দুটোই বিপদজনক ভুল যা বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার ও জনগনকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করবে। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা হয়তো বলবেন ‘আমরা তো আগেও যথাযথভাবে বিচার কার্য করেছি’ এর জবাবে বলা যায়- হাতুড়ে ডাক্তারও তার চিকিৎসা সঠিক বলে দাবী করে কেননা সে আদৌ জানে না সঠিক চিকিৎসা কী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সংশ্লিষ্ট বিচার প্রার্থীদের কাছে ইতোমধ্যে নানা ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও অপ্রিয় হয়েছে, অথচ এটা কখনো কাম্য ছিলনা। সারাবিশ্বে সর্বজন গ্রাহ্য প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার (Natural Justice) এর আরেকটি মূলনীতি হচ্ছে ‘No one should be punished unheard’ বা ‘কাউকেই না শুনে শাস্তি দেয়া যাবেনা’ আমাদের সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ নং অনুচ্ছেদ মানুষকে জান,মাল, ইজ্জতের সুরক্ষা এবং সর্বাবস্থায় সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের অধিকার দিয়েছে, আপনারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় মানুষের এই অধিকারগুলোর কথা মনে রাখেন? সে অনুযায়ী বিচার করেন? আপনারা তা করলে মহামান্য হাইকোর্ট আপনাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকে অবৈধ ঘোষণা করলেন কেন?

নির্বাহী কর্মকর্তাগণ তাদের বিচারিক কাজের যৌক্তিকতা দাঁড় করানোর জন্যে মাননীয় সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান স্যার ও অন্যান্যদের প্রসঙ্গ আনেন যারা আইন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করেও আমাদের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছেন। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তাগন জানেন কি তারা (সম্মানিত বিচারপতিগণ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ নিজ বিষয়ে পড়াশোনা শেষে, আইন বিষয়ে আলাদা ডিগ্রি লাভ করেছেন এবং দীর্ঘদিন হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিস করেছেন। অতপর সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত যাবতীয় আইনি যোগ্যতা পূরণ করেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছেন। আপনাদের কি আইন বিষয়ে এমন পড়াশোনা বা অভিজ্ঞতা আছে?

জজ বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রধান যুক্তি হচ্ছে আদালত গুলোতে মামলা জট। কিন্তু এই মামলা জটের অভিযোগ কতটুকু সত্য?। বস্তুত, অল্প কিছু (যার অধিকাংশই দেওয়ানী বা জমিজমা সংক্রান্ত) মামলা দীর্ঘদিন চলে, তাও আাবার উচ্চ আদালতে। নিম্ন আদালতে মামলা জট নেই বললেই চলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমার বিচারিক এলাকা সুনামগঞ্জ জেলার তাহিপুর উপজেলার সহকারী জজ আদালতে বর্তমানে ( জুন, ২০১৯) বিচারাধীন মামলা সর্বসাকূল্যে ১৭৪ টি। তাহলে বলুন তো নিম্ন আদালতে মামলা জট কীভাবে? সত্য হচ্ছে, আইনী বিধি নিষেধের কারণে মিডিয়া আদালত সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারেনা, ফলে তারা অনেক সময় মামলা মোকদ্দমা বিষয়ে ভূল পরিসংখ্যান ও সংবাদ তুলে ধরে তারা। মোবাইল কোর্ট কীভাবে পরিচালিত হয় দেখেছেন? সেখানে আইনের অনেক মৌলিক নীতিমালা মানা হয়না ( যেমন, No one should be judge of himself এবং No one should be punished unheard) । বলুন তো, সারা বিশ্বের আইন সমূহ এবং আমাদের সংবিধান কেনই বা স্বাধীন ও আলাদা বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে? নির্বাহী বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী নিম্ন আদালতে মামলজট থাকলে সেটাতো অধিক সংখ্যক জজ নিয়োগ দিয়ে সহজে সমাধান করা সম্ভব। তা না করে নির্বাহী বিভাগ দ্বারা বিচার কাজ পরিচালনা করা কি আমাদের জাতীয় লক্ষ্য তথা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যর সাথে সংগতিপূর্ণ?

জনগণ তাঁদের কষ্টের টাকায় ট্যাক্স দেয়, তাহলে কেন তারা নিম্ন মানের বিচার পাবে? তারা অবশ্যই আমাদের রাষ্ট্রের সেরা বিচারটাই পাওয়ার হকদার যা প্রদান করা হবে আইন ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ জজ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক।

শেষকথা, একজন পেশাদার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যেমন সহজেই রুগীকে সুচিকিৎসা দিতে পারবে ঠিক তেমনি একজন পেশাদার জজ বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটই সমাজ ও রাষ্ট্রে জেনে বুঝেই যথাযথভাবে বিচারপ্রার্থীদের জন্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবে। একইভাবে নির্বাহী বিভাগের কাজ যদি বিচার বিভাগ করতে যায় সেটাও দেশ ও জনগনের জন্যে অকল্যানকর ও অবাঞ্চিত হবে। ঠিক এই কারণেই যার কাজ তাকেই ভালো মানায়।

দেশের মানুষের সাধারণ বোধ শক্তিই বলবে, যে ব্যক্তি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ সেই ব্যক্তিই রাষ্ট্রে বিচারের দায়িত্বে থাকা আবশ্যক, কল্যানকর ও নিরাপদ; কেননা বিচারিক কার্য কোনো ছেলেখেলা বিষয় নয় যে যাচ্ছেতাই ভাবে না বুঝে, না জেনে করা যাবে। বরং যে ক্ষেত্রে যথাযথ ভাবে কার্যসিদ্ধির (যেমন; বিচার কার্য) জন্যে টেকনিক্যাল জ্ঞানের ও অভিজ্ঞতার (যেমন; আইনি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ) দরকার হয় সেক্ষেত্রে তাকেই (যেমন; জজ বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারিক) কাজের একক সুযোগ দেওয়া উচিত। বিচারিক ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের অতি আগ্রহ বা হস্তক্ষেপ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, বিচারিক স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও জনকল্যানের পরিপন্থী।

আসুন ব্যক্তি বা শ্রেণীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে, আইনের শাসন, দেশ ও জনগনের কল্যানকেই প্রাধান্য দিই; যার কাজ তাকেই করতে দিই।

(উল্যেখ্য, কোন ব্যক্তি বা শ্রেণীকে ছোট বা হেয় করার জন্যে এটা লেখা হয়নি। হাতুড়ে ডাক্তারদের বিষয়টি কেবল সহজে উদাহরন দেয়ার জন্যেই আনা হয়েছে। বরং দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রের ও সরকারের কাজের মান বৃদ্ধি, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, ক্ষমতার পৃথকীকরণ , জনকল্যাণ ও দেশপ্রেমের তাড়না ও দায়িত্ববোধ থেকে। ভালো, শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নিজ কাজে মগ্ন সরকারী কর্মকর্তাদের প্রতি অবিচল আস্থা ও সম্মান আছে এবং থাকবে।)

লেখক: মো. আবদুল আলীম সহকারী জজ, সুনামগঞ্জ।
৩৮ তম ব্যাচ, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Email: alim.judge.bd@gmail.com