advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাজেট আলোচনায় সরকার ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুন ২০১৯ ২২:৩৬ | আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯ ২২:৩৬
advertisement

জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানের সংসদের কেউ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নন। নির্বাচনে তিনশ আসন লুট করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৌশলী ও উদারনীতির কারণে তাদের সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে। সংসদে শপথ নিয়ে, সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে করে আবার সংসদকে অবৈধ বলা বিএনপির নির্লজ্জতা-দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আজ রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পুরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় এমন উত্তপ্ত আলোচনা হয়। বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা অসংসদীয় বক্তব্য দিলে পরে ডেপুটি স্পিকার তা এক্সপাঞ্জ করে দেন।

প্রথমে আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘চলতি অর্থ বছরের বাজেট ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি। ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ৩৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বেশি খরচ করেছে আর ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খরচ করতে পারেনি। সম্পূরক বাজেটের আকার হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা।

বেশি খরচ করা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হচ্ছে- নির্বাচন কমিশন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক বিভাগ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগ।’

নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘দেশের নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ হিসাব করলে দেখা যায় তাদের খরচ অমূলক না। তারা ইউপি নির্বাচন থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, সবশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কৌশলী, সহনশীল নেতৃত্বের কারণে বিরোধী দল শুধু সংসদে এসে না, সংসদে কথাও বলছেন।’

বিএনপির রুমিন ফারহানার আগের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে অনেকে বলছেন সংসদ অবৈধ। অবৈধ হলে আসলেন কেন? কেউ তো চরণ ধরে সাদাসাধি করেছে এমন তো নয়। আসছেন গণতন্ত্রের চর্চা করলে সেটা ভাল কথা। কিন্তু অবৈধও বলবেন আবার শপথও নেবেন, এমপি হিসেবে সব সুযোগ সুবিধা নেবেন। আপনাদের বক্তব্যে শুনে মনে হয় জলে নামব জল তো ছুঁবো না। আমার মাথার বেনী শুকিয়ে রবে চুলতো ভিঁজাব না। মাথার বেণি ঠিক রেখে চুল না ভেজানোর গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ করছেন। সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ। তাদের এই খরচ প্রাপ্যই ছিল তাই সবাই মিলে অনুমোদন দেব।’

বাজেট পরবর্তী এক অর্থনীতিবিদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে উনি এসব দেখেন না। উনি কাল্পনিক চৌকাঠে আসমানে বিচরণ করলে করুন দেশের মানুষের আয় বেড়েছে দেশ ভাল চলছে কে কি বলল তাতে আসে যায় না।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানির শিকার। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। উচ্চ ও নিম্ন আদালত কোনটাই স্বাধীন নয়।’

তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে কত লাখ মেট্রিক টন চাল, গম ও ডাল আমদানি করা হচ্ছে আমরা তার হিসাব চাই। তাই দেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ এটি ঠিক নয়। আমি সংসদ নেতাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আশা করছি দেশে সুশাসন ফিরে আনার জন্য সংসদ নেতা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে দেশে একটি আবহাওয়া তৈরি করবেন সুবাতাস বয়ে আনবেন।’

বক্তৃতার শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডকে জাতীয় ট্রাজেডি আখ্যায়িত করে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সংসদ নেতা আপনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। এটা নি:সন্দেহে বেদনার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় ট্রাজেডি। আর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বিএনপি দেয়নি। দিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় থাকাকালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। ’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান দেশে যে প্রক্রিয়াতেই ক্ষমতায় আসুক না কেনো ক্ষমতায় আসার পর উনি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। এখন সেই গণতন্ত্র অনুপস্থিত। ’

বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে বেশি খরচ করায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এবার জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ নির্বাচন করেছেন স্বাভাবিকভাবেই খরচ বাড়তে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন করতে গিয়ে কোনো নির্বাচনের বৈধতা অর্জন করতে পেরেছেন? এই নির্বাচন কমিশন অযোগ্য ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন? কাজেই তারা যে টাকা খরচ করেছে সেটা সম্পূর্ণ অপচয় করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলব এই টাকা অপচয় করা হয়েছে। তাদের দ্রæত পদত্যাগ করা উচিত। আর বর্তমান সংসদে আমরা ৬ জন (বিএনপি) প্রবেশ করলেও এই সংসদ বৈধতা পাবে না। তাই জাতীয় আলোচনার মাধ্যমে দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সুবাতাস আসবে এমন আশা করি।’

এদিকে বিএনপির সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ অধিবেশন। বিএনপি সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই সংসদের কেউ বলতে পারবে জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত? কেউ বলতে পারবেন না। ’এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের সদস্যরা হই হই করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্য থামিয়ে বলেন, ‘আপনি বাজেটের বাইরে এমন কোনো কথা বলবেন না যাতে সংসদ উত্তপ্ত হয়। দশ মিনিটের বক্তৃতায় তিন দফায় বাঁধার সম্মুখিণ হন রুমিন ফারহানা।’

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘এই সংসদে আসার আগে সংসদ নেতা বলেছিলেন আমাদের কথা বলতে দেবেন। কিন্তু আমার প্রথম বক্তৃতার দুই মিনিটের এক মিনিটও শান্তিমতো কথা বলতে পারি নাই। একই ঘটনা আজকেও। আমরা কথা বলতে পারছি না। কোন গণতন্ত্রের কথা বলছি। আমি আমার দলের কথা বলব, তারা তাদের দলের কথা বলবে। আমি দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে পুরো সংসদ যদি উত্তেজিত হয়ে যায়, তাহলে কিভাবে কথা বলব?’

পুরো দশ মিনিটের বক্তৃতায় কয়েক সেকেন্ড শুধু সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বলেন, ‘২০১০-১১ অর্থ বছর থেকে এ পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৬ শতাংশ। সরকারের সক্ষমতা দিন দিন কমছে।’

নির্বাচন কমিশনে ব্যায় বাড়ানোয় সমালোচনা করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ব্যায় বাড়ানো হয়েছে। কি নির্বাচন তারা করেছে? আমার একটা কথায় পুরো সংসদ উত্তপ্ত। কলামের পর কলাম লেখা হয়। এই সংসদে যারা আছেন তারা আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলুক তারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন? তারা নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুক সবাই উত্তর পেয়ে যাবেন। ’

বক্তৃতার মাঝপথে আবারও বাঁধার সন্মুখিন হন। এভাবেই তার ১০ মিনিটের বক্তৃতা শেষ করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে উদ্দেশ্যে বলেন আপনি বাজেটের বাইরে ও সংসদীয় ভাষার বাইরে যে কথাগুলো বলেছেন তার সবকথা সংসদীয় প্রসিডিউর থেকে এক্সপাঞ্জ করা হলো। এই কথা বলার পর বিএনপির সবাই অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান। পরে অবশ্য আবার অধিবেশনে ফেরেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে বিএনপি শত শত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সারাদেশে ভয়াল নাশকতা চালিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিএনপি নেতারা নানা হুমকি দিয়েছে। বিএনপি নেত্রী দুর্নীতি করেছেন, আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। সেখানে সরকারের কী অপরাধ? বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে ও সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় রয়েছে। জনগণ থেকে আপনারা (বিএনপি) প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির অনেকে এখনও জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষণা বলতে চান। কিন্তু কট্টোর বিএনপি-জামায়াত যাদের ঘাড়ে এখনও পাকিস্তানের ভুত চেপে বসে আছে, তারাও যদি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েন, তারাও স্বীকার করতে বাধ্য হবেন স্বাধীনতার ঘোষণাসহ প্রতিটি কর্মকাণ্ডে রয়েছে একটিমাত্র নাম; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা দীর্ঘ আন্দোলন ও ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার আগে কেউই জিয়াউর রহমানটি পর্যন্ত জানতো না।’

জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, ‘৭৮ ভাগ বাজেট গত বছর বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। প্রতি বছরই বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ব্যাংকে টাকা নেই, সব টাকা ঋণখেলাপীদের কাছে। ২২ হাজার কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি। দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণখেলাপী হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকবে কীভাবে? নির্দেশের পরও ব্যাংকের সুদের হার কমে না এতো স্পর্ধা পায় কোথায়? বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও এই খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হলে ঋণখেলাপীরা টাকা ফেরত দিচ্ছেন না কেন?’

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সংসদে বিএনপির চরম মিথ্যাচার ও অসংসদীয় উস্কানীমূলক বক্তব্যেই প্রমাণ করে বাজেট নিয়ে তাদের অন্য কোনো কথা নেই। তাদের খুন, দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস ও দুঃশাসনের কারণেই গত নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বিরোধী দলের আসনেও বসার সুযোগ পায়নি। বাংলাদেশের মানুষ অস্ত্র চোরাকারবারী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী সন্ত্রাসী তারেক রহমানকেও প্রত্যাখ্যান করেছে।’

জাপার সাংসদ পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘এই সংসদ অবৈধ হলে তারা (বিএনপি) আসেন কিভাবে? সংসদে থাকা আপনারা সবাই তো অবৈধ। সংসদ কখনো অবৈধ হতে পারে না, ব্যর্থতা থাকলে সেটা বিএনপির। সংসদ বৈধ বলেই তারা শপথ নিয়েছেন, কথা বলছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি দিয়েছিলেন। কেননা, বঙ্গবন্ধু হত্যার বেনিফিশিয়ারী একমাত্র বিএনপি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের ওপর গ্রেনেড হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যা, অগ্নিসন্ত্রাস, পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার কথা কি বিএনপি নেতারা ভুলে গেছেন? আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখে পরে কথা বলুন।’

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘বিএনপির এক নেতা নিজেকে ঈমানদার দাবী করেছেন। যদি তাই হয় তবে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করছেন, মেট্রোরেল করছেন, বড় মহাসড়কগুলো ৪ লেনে উন্নীত হচ্ছে এসব কথা সংসদে বলুন, সত্যকে সত্য বলুন। বিনা ভোটে সংসদে এসে সংসদকে অবৈধ বলা ঠিক হয়নি। আমরা সবাই নির্বাচন করে জনগণের ভোট নিয়ে এসেছি।’

গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, ‘সাধারণ মানুষ নয়, কয়েকটি স্বার্থান্বেসী ও ব্যবসায়ী মহলের দিকে তাকিয়ে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের নানা পর্যায়ে দুর্নীতি হচ্ছে। তাই সরকারের ব্যয় সঠিক ও নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে উচ্চ মূল্যে চুক্তির কারণে বিদ্যুতখাতে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হচ্ছে। স্মার্ট বাজেটের নামে গরিবকে আরও গরিব, ধনীকে আরও ধনী করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

সম্পুরক বাজেটের ওপর আলোচনায় আরো অংশ নেন সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এবং বিএনপির মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া।