advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়ে শক্তিশালী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ জুন ২০১৯ ০৮:৪৮
advertisement

‘অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা গণমাধ্যমে স্বীকার পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সে কি দুদকের চাইতে শক্তিশালী?’ এমন প্রশ্নই তুলেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। হলমার্ক চেয়ারম্যানের জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের আবেদনের শুনানিকালে গতকাল রবিবার দুদক আইনজীবীর কাছে প্রশ্নটি করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ।

আদালতে দুদকের আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আদালত থেকে বেরিয়ে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হলমার্কের চেয়ারপারসন জেসমিন ইসলামকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে আমরা লিভ টু আপিল করেছিলাম। আমরা মানে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ মামলার শুনানিকালে আদালত আমাকে বেশ কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন।

আদালত বললেন-আপনাদের (দুদকের) একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। এটা তো দেশের জন্য অ্যালার্মিং। আমি বলেছি-এর বিরুদ্ধে পিউনেটিভ অ্যাকশন (কার্যকর পদক্ষেপ) নেওয়া হয়েছে। এ সময় আদালত বলেন-কিসের পিউনেটিভ অ্যাকশন নিয়েছেন? আপনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর তথ্য পাচারের জন্য অ্যাকশন নিয়েছেন। ঘুষের অভিযোগে অ্যাকশন নেননি। আমি বলেছি-ঘুষের জন্য নিতে হলে আমাকে একটু অনুসন্ধান করতে হবে। অনুসন্ধান করে আমাকে এফআইআর দায়ের করতে হবে। আইনের বাইরে তো আমি কোনো কিছু করতে পারব না।’

খুরশীদ আলম বলেন, ‘আদালত আমার কাছে জানতে চেয়েছেন-ডিআইজি মিজান কি দুদকের চাইতে বড়? তাকে তো আপনি (দুদক) অ্যারেস্ট করতে পারছেন না। তাকে কেন অ্যারেস্ট করছেন না? আমি বলেছি-আমার যে লোক (দুদকের কর্মকর্তা এনামুল বাছির) তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর যে মামলায় তার (ডিআইজি মিজানুর রহমান) অ্যারেস্ট হওয়ার কথা, সে মামলাতে অলরেডি চার্জশিট মেমো অব অ্যাভিডেন্স দেওয়া হয়েছে। এবং যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই দুদক একটা অ্যাকশন নিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। নতুন একজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি নতুন করে কাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত আইনানুগভাবে গুরুত্বসহকারে দেখছে দুদক। কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’

পুলিশের উচ্চপদে থেকে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ পায় দুদক। তাকে দায়মুক্তি দিতে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার জন্য ‘চুক্তি’ করেন খন্দকার এনামুল বাছির। সঙ্গে দাবি করেন একটি গ্যাসচালিত গাড়ি। ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা গত ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে নগদে নিয়েছেন এই দুদক পরিচালক। তিনি দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ অনুবিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। পরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসে দুদক।

কমিশনের সচিবকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন দুদক চেয়ারম্যান। পরে কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে কমিশন। যদিও ঘুষ চাওয়া কিংবা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন দুদক পরিচালক এনামুল।