advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে, অভিযোগ অস্বীকার 

আদালত প্রতিবেদক
১৭ জুন ২০১৯ ১৪:৪৬ | আপডেট: ১৭ জুন ২০১৯ ২০:২৮
advertisement

মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির যৌনহয়রানি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের সময় আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ সোমবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে এ পুলিশ কর্মকর্তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুন এ মামলায় চার্জগঠনের শুনানির দিন ঠিক করেন এবং ওইদিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতেও আদেশ দেন।

এর আগে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে হাজির করে পুলিশ। সেখান থেকে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে অবস্থিত সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ওঠানো হয় তাকে।

আদালতে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন তার বক্তব্য প্রদান করেন। আদালতকে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত ২০ দিন আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আসামি একজন আইনের রক্ষক। তিনি যদি নির্দোষ হতেন, তবে আইনের লোক হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, পালিয়ে ছিলেন। বিজ্ঞ আদালত এখন আপনিই সিদ্ধান্ত দেন তার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নিবেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘আসামি পলাতক ছিলেন। আইনের লোক হয়েও আদালতে আসেননি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। জামিন পেলে পলাতক হবেন।’

এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ ওসি মোয়াজ্জেমের জামিনের আবেদন করেন। আদালতকে তিনি বলেন, উনি (আসামি মোয়াজ্জেম) পলাতক ছিলেন না। তিনি আইনের আশ্রয়ের জন্য হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। রোববার আত্মসমর্পনের জন্যই তিনি হাইকোর্টে আসেন। সেখান থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও পুলিশ তা স্বীকার করেনি। বলছে, শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার অভিযোগ সম্পর্কে এ আইনজীবী বলেন, মামলায় বলা হয়েছে, তার (আসামি মোয়াজ্জেম) আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তার আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানো হয়নি। ছড়ানো হয়েছে মো. আতিয়ার হাওলাদার সজল নামে এক সাংবাদিকের আইডি থেকে। অথচ তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি, যা রহস্যজনক।

বরং সজলের আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানোর কথা জানতে পেরে তিনি গত ১৪ এপ্রিল থানায় একটি জিডি করেন। তাই মোয়াজ্জেম হোসেন এ মামলায় আসামি হতে পারেন না। তিনি জামিন পেতে পারেন। ওই সময় বিচারক আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন যে, মোয়াজ্জেম হোসেন ভিডিওটি করেছিলেন কি না? এ প্রশ্নের বিষয়ে আইনজীবী সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

একই আদালত গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এ মামলায় দাখিলকতৃ তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওইদিনই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদীর দাখিলকৃত মামলায় দুইজন সাক্ষী এবং ঘটনা সংশ্লিষ্টে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া সংক্রান্তে বিশেষাজ্ঞ মতামত এবং দালিলিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রতিয়মান হয়েছে যে, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গত ২৭ মার্চ বেলা ১টা ১৮ ঘটিকার সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল (Samsung Galaxy A8+) দ্বারা থানায় আগত ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে, যাতে ভিকটিমের ব্যাক্তিগত তথ্য পরিচিতি প্রকাশ পায়।

এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারার অপরাধ প্রমানিত হয়। এছাড়া ধারণকৃত ভিডিও গত ৮ এপ্রিল শেয়ারইট অ্যাপসের মাধ্যমে সজল নামক ডিভাইসে প্রেরণ করে প্রচার করায় একই আইনের ২৯ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়।

অন্যদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা ডিজিট্যাল বিন্যাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় ও আইন শৃঙ্খলার অবনতির উপক্রম করায় একই আইনের ৩১ ধারায় অপরাধ করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিকটিম নুসরাত অল্প বয়সের একটি মেয়ে এবং মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলেন। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওসি মোয়াজ্জেমের আরও কৌশলী হয়ে নারী ও শিশু বান্ধব উপায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন ছিল। সে একজন সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীর সদস্য হয়েও নিয়ম বর্হিভূতভাবে ভিকটিম নুসরাতের শ্লীলতাহানির ঘটনার বক্তব্য ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। যার ফলে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।

মামলায় যে সকল ধারায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করা হয়েছে ওই সকল ধারায় সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী সুমান। তিনি বলেন, ৩টি ধারার প্রত্যেকটিতে ৫ বছর করে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। 

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল বাদী এ মামলা করলে ট্রাইব্যুনাল পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।