advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মৃত্যুর কাছে হেরে গেল ধর্ষণের শিকার শিশু আছিয়া

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
১৭ জুন ২০১৯ ২১:২৬ | আপডেট: ১৭ জুন ২০১৯ ২১:২৬
advertisement

বেঁচে থাকার লড়াইয়ে হেরেই গেল ধর্ষণের শিকার হওয়া আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া। ওই ঘটনার পর প্রায় এক বছর চিকিৎসাধীন থেকে আজ সোমবার ভোরে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় শিশুটি।

জানা যায়, আছিয়া টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দিনমজুর আশরাফ আলীর মেয়ে। গত বছরের ৯ জুন শিশুটিকে ধর্ষণ করে একই এলাকার তায়েজ উদ্দিনের ছেলে মাহবুব (১৫)। এ বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৯ জুন মাহবুব প্রলোভন দেখিয়ে আছিয়াকে ডেকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে একটি ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এতে আছিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে এলেঙ্গার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে শিশুটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

২০১৮ সালের ৯ জুন আছিয়ার বাবা আশরাফ আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের তায়েজ আলীর ছেলেকে মাহবুবকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩০ আগষ্ট মামলার চার্জশিট দাখিল করে।

শিশু আছিয়ার নানা হযরত আলী বলেন, ‘ঢাকায় আত্মীয়ের একটি বাসাতে সোমবার ভোররাতে আছিয়া ব্যাথায় ছটফট করতে থাকে। ওকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়। সোমবার দুপুরের দিকে তাকে কালিহাতীর মালতীতে আনা হয়।’

কালিহাতীর নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর মাহমুদ বলেন, ‘লাশ বাড়িতে আনার পর আমি গিয়েছিলাম। শিশুটি ঢাকায় ওর আত্মীয়ের বাসায় মারা গেছে। শিশুটিকে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতলে কর্মরত শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেলের অফিসার (পিও) বায়েজিদ বলেন,  ‘সে সময় ধর্ষণের ফলে শিশুটির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। মলদার ও যৌনাঙ্গে ছিড়ে গিয়ে এক হয়ে যায়। এতে আটটি সেলাই করার পরও তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে টাঙ্গাইলের তৎকালীন এডিসি জেনারেল নেসার উদ্দিন জুয়েলের আর্থিক সহায়তায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এক বছর ঢাকায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছিল শিশুটি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের আক্রান্তরা মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকেন।’

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় সেই সময় ধর্ষক মাহবুবকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ও আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।’

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। ধর্ষণের দ্রুত ও যথাযথ বিচার না হওয়ার কারণেই এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। আসামি মাহবুবের উপযুক্ত শাস্তি হলেই আছিয়ার আত্মা শান্তি পাবে।’