advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এ সংসদ অবৈধ জাতিকে জানাতেই শপথ নিইনি : মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
১৮ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জুন ২০১৯ ০৯:৩২
advertisement

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, এ সংসদ অবৈধ-এটা জাতিকে জানাতেই আমি শপথ নিইনি। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল, দাবি করে বিএনপির বাকি সংসদ সদস্যদের সংসদে যোগদান করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি নেতাকর্মীদের বলেন, সরকারের দমন-নিপীড়নে বিএনপি রাজপথে দাঁড়াতে পারছে না। সভা-সমাবেশ আয়োজন করলেও তা ভণ্ডুল করে দিচ্ছে স্বৈরাচার এ সরকার। তিনি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধারক সরকারের অধীনে আবার নির্বাচন দাবি করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজে গতকাল সোমবার বিকালে উপজেলা বিএনপির এক কর্মীসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের দলীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্য উপেক্ষা করে তিনি শপথ নিয়েছেন। তাকে শপথ না নেওয়ার জন্য দল থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের জন্যও অপেক্ষা করেননি তিনি। তার বহিষ্কারের আদেশ প্রসঙ্গে বলেন, জাহিদুর রহমানের প্রতি বিএনপির যতেষ্ট সহানুভূতি ছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য না ধরে তড়িঘড়ি করে সংসদে গিয়ে শপথ নিয়েছেন। তবে দলের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পর তার বহিষ্কার আদেশ বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।

রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শাহ্জাহান আলীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদ, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, হোসেনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আইনুল হক প্রমুখ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অপ্রতিরোধ্য জনগণকে ভোট বিপ্লব থেকে সরিয়ে দিতে বেগম খালেদা জিয়াকে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে এ অবৈধ সরকার। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অধীর অপেক্ষায় ছিলেন এ দেশের মানুষ। কিন্তু বন্দুক, পিস্তল ঠেকিয়ে জনগণের ভোট উৎসব ডাকাতি করেছে আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটুয়া বাহিনী। ঢাকা থেকে বিশেষ বাহিনী আনা হয়েছিল শুধু আমাকে ভোটে হারিয়ে দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, নির্বাচন হয়ে গেলেও এ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তবে ঠাকুরগাঁর রাণীশংকৈল উপজেলার কিছু মানুষ ভোট দিতে পেরেছেন শুধু সাংগঠনিক শক্তির কারণে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিভিন্ন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এ স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ২৬ লাখ মানুষ আসামি, যার মধ্যে বিএনপির আসামির সংখ্যা ১ লাখ।

এ ছাড়া আন্দোলন করতে গিয়ে গুম-খুন হয়েছে অসংখ্য নিরীহ মানুষ। আমি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মামলা থেকে বাদ পড়িনি। আমার বিরুদ্ধে ৮৬টি ও ম্যাডামের বিরুদ্ধে ৩৪টি মিথ্যে মামলা দিয়েছে এ অবৈধ সরকার। পরে তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এক কর্মিসভায় যোগ দেন। তার আগে বেলা ১১টায় হরিপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। চার দিনের এই সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার তিনি হরিপুর উপজেলায় কর্মী সমাবেশে অংশ নেন।