advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে

আদালত প্রতিবেদক
১৮ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জুন ২০১৯ ০৮:৩১
advertisement

সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

এর আগে আলোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তাকে আড়াল করতে আদালত চত্বরে গণমাধ্যমকর্মীদের নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়। বিচারক ৩০ জুন এ মামলায় চার্জগঠনের শুনানির দিন ঠিক করেন। ওইদিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতেও আদেশ দেন।

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি থানায় গিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ জানানোর সময় তা ভিডিওতে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় ওসিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় পরোয়ানা জারির পর ২০ দিন পলাতক ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়।

গত রবিবার তাকে হাইকোর্টের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রিজনভ্যানে করে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে হাজির করে পুলিশ। কিন্তু সেখানে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্যামেরার উপস্থিতির কারণে তাকে প্রিজনভ্যান থেকে না নামিয়ে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকে বেলা ২টার দিকে তাকে আবার মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয়। এর পর হাতকড়া ছাড়াই প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে লিফটে করে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ৬ তলায় সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ওঠানো হয়।

তখন প্রায় ২টা ২০ মিনিট। প্রিজনভ্যান থেকে আদালতে ওঠানোর সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে রেখে সাংবাদিকদের কাজে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় অনেক সাংবাদিক আহতও হন।

মোয়াজ্জেম হোসেনও প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর পর থেকেই কখনো মাথা নিচু করে, পুলিশের পেছনে নিজেকে লুকিয়ে, কখনো হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করেন। অন্য সময় ক্লিন শেভ থাকা মোয়াজ্জেমের মুখে এদিন দাড়ি ছিল। চোখে ছিল সানগ্লাস। তাকে কিছুটা বিচলিত দেখাচ্ছিল। ট্রাইব্যুনালের ভেতরেও পুলিশ তাকে ঘিরে ছিল। বিচারক আগে থেকেই এজলাসে ছিলেন। মোয়াজ্জেমকে কাঠগড়ায় ওঠানোর দুই মিনিট পরই শুনানি শুরু হয়।

মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন প্রথমে বলেন, আদালত ২০ দিন আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আসামি একজন আইনের রক্ষক। তিনি যদি নির্দোষ হতেন, তবে আইনের লোক হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, পালিয়ে ছিলেন। আদালত এখন আপনিই সিদ্ধান্ত দেন, তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন।

এর পর রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, আসামি পলাতক ছিলেন। আইনের লোক হয়েও আদালতে আসেননি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। জামিন পেলে পলাতক হবেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জামিনের আবেদন করে বলেন, মোয়াজ্জেম পলাতক ছিলেন না। তিনি আইনের আশ্রয়ের জন্য হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। রবিবার আত্মসমর্পণের জন্যই তিনি হাইকোর্টে আসেন। সেখান থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগ সম্পর্কে এ আইনজীবী বলেন, মামলায় বলা হয়েছে, মোয়াজ্জেমের আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ছড়ানো হয়েছে মো. আতিয়ার হাওলাদার সজল নামে এক সাংবাদিকের আইডি থেকে। অথচ তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি, যা রহস্যজনক। বরং ভিডিও ছড়ানোর কথা জানতে পেরে তিনি ১৪ এপ্রিল থানায় একটি জিডি করেন। তাই মোয়াজ্জেম হোসেন এ মামলায় আসামি হতে পারেন না। তিনি জামিন পেতে পারেন।

ওই সময় বিচারক আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করেন, মোয়াজ্জেম হোসেন ভিডিওটি করেছিলেন কিনা? এ প্রশ্নে আইনজীবী সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

ওইদিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত প্রতিবেদনে নুসরাতের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ এবং ৮ এপ্রিল তা শেয়ারইট অ্যাপের মাধ্যমে সজল নামক ডিভাইসে পাঠিয়ে প্রচার করে তিনটি ধারায় অপরাধ সংঘটনের সত্যতা মেলার কথা বলা হয়।

বাদী ব্যারিস্টার সুমন জানিয়েছেন, ৩টি ধারার প্রতিটিতে ৫ বছর করে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ১৫ এপ্রিল বাদী এ মামলা করলে ট্রাইব্যুনাল পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

ওসি মোয়াজ্জেম বর্তমানে রংপুর জেলা পুলিশের অস্ত্র শাখায় কর্মরত। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। আগুনে পুড়িয়ে হত্যার আগে গত ২৭ মার্চ নুসরাত যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে পুলিশ নুসরাত ও আসামি অধ্যক্ষ সিরাজউদদ্দৌলাকে একসঙ্গে থানায় নিয়ে যায়। সেই সময় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন।

৬ এপ্রিল নুসরাতকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় অধ্যক্ষের লোকজন। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

advertisement