advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মৃত্যুর কাছে হেরে গেল ধর্ষণের শিকার আছিয়া

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
১৮ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জুন ২০১৯ ০১:২৭
advertisement

জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে গেল ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশু আছিয়া। ধর্ষণের এক বছর পর চিকিৎসাধীন গতকাল সোমবার ভোরে শিশুটি ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় সবাইকে কাঁদিয়ে এ পৃথিবী থেকে চলে যায়।

আছিয়া টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মালতী গ্রামের দিনমজুর আশরাফ আলীর মেয়ে। গত বছরের ৯ জুন তাকে ধর্ষণ করে একই গ্রামের তায়েজউদ্দিনের বখাটে ছেলে মাহবুব। এ বিষয়ে দায়ের করা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

জানা গেছে, মাহবুব প্রলোভন দেখিয়ে আছিয়াকে ডেকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে একটি ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এতে আছিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে এলেঙ্গার একটি বেসরকারি হাসপাতালে, পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর অবস্থার আরও অবনতি হলে শিশুটিকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

গত বছরের ৯ জুন আছিয়ার বাবা আশরাফ আলী বাদী হয়ে মাহবুবকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট মামলার চার্জশিট দেয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতলে কর্মরত শিশু ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন স্টপ ক্রাইসিস সেলের অফিসার (পিও) বায়েজিদ বলেন, ধর্ষণের ফলে শিশুটির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। মলদার ও যৌনাঙ্গ ছিঁড়ে গিয়ে এক হয়ে যায়। এতে আটটি সেলাই করার পরও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইলের তৎকালীন এডিসি জেনারেল নেসারউদ্দিন জুয়েলের আর্থিক সহায়তায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এক বছর ঢাকায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছিল শিশুটি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আক্রান্তরা মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকেন। কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় সেই সময় ধর্ষক মাহবুবকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, এটি একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। ধর্ষণের দ্রুত ও যথাযথ বিচার না হওয়ার কারণেই সমাজে এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। আসামি মাহবুবের উপযুক্ত শাস্তি হলেই আছিয়ার আত্মা শান্তি পাবে।

advertisement