advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘ভুল’ করে পাসপোর্ট ফেলে যান পাইলট

ইউসুফ আরেফিন
১৮ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জুন ২০১৯ ০৮:৩২
advertisement

ফিনল্যান্ড সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে পাসপোর্ট ছাড়াই কাতারে যাওয়া বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠিত কমিটি। তাতে বলা হয়েছে, ‘ভুল’ করে নিজের পাসপোর্ট রেখে গিয়েছিলেন পাইলট।

গত রবিবার তার কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় বলে গতকাল সোমবার নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। প্রতিবেদনে কী আছে সে বিষয়ে অবশ্য তিনি মুখ খুলেননি।

তবে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম আমাদের সময়কে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি বিমানের পাইলট ফজল মাহমুদের সঙ্গে কথা বলে। পাইলটের বক্তব্য অনুযায়ী, ভুল করে বলাকা ভবনের নিজ অফিসে তিনি পাসপোর্ট রেখে গিয়েছিলেন।সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে তদন্ত কমিটিও নিশ্চিত হয়েছে যে, আসলেই তিনি ভুল করে পাসপোর্ট রেখে গিয়েছিলেন।’

প্রতিবেদনে কী কী সুপারিশ করা হয়েছে-এমন প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘তা এ মুহূর্তে বলা যাবে না। তবে কর্মকর্তারা যেন ভবিষ্যতে এমন ভুল না করেন সে দিকটা ফোকাস করেই সুপারিশ করা হয়েছে।’

কমিটির অন্যরা হলেন-মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হেলাল মাহমুদ শরীফ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

ঘটনা তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ কমিটিকে প্রথমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। পরে আরও তিন কর্মদিবস সময় বেশি পায়। তবে ছয় কর্মদিবস শেষ হওয়ার আগেই গত রবিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের হাতে কমিটি তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে গতকাল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শফিউল আলম শুধু বলেন, ‘পাইলটের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলার সুপারিশ রয়েছে।’ এর বেশি কিছু বলতে চাননি প্রশাসনের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

গত ৫ জুন ফিনল্যান্ড সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে কাতারের দোহায় যান পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। কিন্তু পাসপোর্ট না নিয়ে যাওয়ায় তাকে দোহায় আটকে দেওয়া হয়। পরে অন্য এক পাইলট গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দেশে নিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি করে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৭ জুন সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন) মোহাম্মদ আজহারুল হককে সভাপতি, যুগ্ম সচিব (বহিরাগমন-৪) হেলাল মাহমুদ শরীফকে সদস্য সচিব এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেলিনা বানু ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলমকে সদস্য করে এ কমিটি হয়। তবে সাত কর্মদিবস সময় দেওয়া হলেও এ কমিটি এখনো তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

advertisement