advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইতিহাস বদলে দেওয়া জয়

১৮ জুন ২০১৯ ০২:০৫
আপডেট: ১৮ জুন ২০১৯ ০৮:২৮
advertisement

কার্টলি অ্যামব্রোস মাঠেই ছিলেন। খেলা শেষে তিনি নিশ্চয় ফাস্ট বোলারদের বলেছেন, ‘সাকিবকে ড্রাইভ করে হোটেলে নামিয়ে দিয়ে এসো। কখনই অফে ওভাবে ঝুলিয়ে বল দিও না!’

ম্যাচটি ৩৮তম ওভারেই মূলত শেষ হয়ে গেছে। গ্যাব্রিয়েলকে বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পাওয়া লিটন তিনটি ছক্কা হাঁকান। এর পর মনে হয়েছে, জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র! কোচ স্টিভ রোডসের জন্মদিন ছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সফল রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ (৩২২/৩, ৪১.৩ ওভার)। বিশ্বকাপে ভালোভাবেই টিকে থাকল টাইগাররা। ৫১ বল হাতে রেখে জয়। কম কথা নয়!

বিশ্বকাপে স্বপ্ন টিকে রইল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের পর আকাশ আঁধার করে আসে মেঘ। নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে হুমকির মুখে চলে যান  টাইগাররা। ব্রিস্টলে শ্রীলংকার ম্যাচটি প- হয়ে যায় বৃষ্টির কবলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ ম্যাচ জিততেই হতো বাংলাদেশকে।

তামিম ও সৌম্য সরকার পথ দেখিয়েছিলেন। বিশাল স্কোর। অবশ্য ২০১৫ সালে স্কটল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ৩১৯ রানের টার্গেট সফলভাবে টপকে গিয়েছিল। কালও বাংলাদেশ সফল হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ রেকর্ড করল।

এবার তাড়া করেছেন টাইগাররা ৩২২ রান। ৫ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। সাকিবের অনেক পাওয়ার ম্যাচ এটি। ৬ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। এ ম্যাচে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট ও শতরান বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে দারুণ জয়।

তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার শুরুটা দারুণ করেন। দলের ৫২ রানে আপারকাট করতে গিয়ে মিসটিফাইড হন সৌম্য। সিøপে গেইলের হাতে ক্যাচ যায়। ২৯ রানে চলে যান।

দলের ১২১ রানে তামিম দুর্ভাগ্যের শিকার হন। ৪৮ রানে সেট হয়ে গিয়েছিলেন। কোটরেলের বল রুখে দেন। উইকেটের বাইরে চলে এসেছিলেন। কোটরেল পাল্টা থ্রোতে রানআউট করেন। মুশফিক এসে দাঁড়াতে পারেননি। ১৩৩ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাকিব ও লিটন দাস কাঁধে দায়িত্ব নেন। চতুর্থ উইকেটে এ দুজন বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নোঙর করান। সাকিবের এটি নবম সেঞ্চুরি, বিশ্বকাপে অবশ্য টানা দ্বিতীয়। ইংল্যান্ডের ম্যাচটিতে সেঞ্চুরি করলেও দল হেরে যায়। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৩ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন বাংলাদেশের প্রাণশক্তি।

সাকিব ৯৯ বলে ১২৪ করে অপরাজিত ছিলেন। এই ম্যাচের আরেক নায়ক লিটন দাস ৬৯ বলে ৯৪ করে এগিয়ে দেন। ক্যারিবীয়দের বিশ্বকাপ আশা অনেকটা ফিকে হয়ে গেল।

সকাল থেকেই রোদ। পাহাড়ের কোলঘেঁষে মেঘের খেলা চলেছে সারাদিন। সূর্য আড়ালেই হেসেছে। বৃষ্টি কান্না হয়ে আসেনি, বাংলাদেশও পেয়েছে স্বস্তি। তবে বাংলাদেশের মূল টার্গেট ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেলকে খালি হাতে ফিরিয়েও রক্ষা অবশ্য হয়নি। সেই পুরনো ঘাতক হোপ আশা জাগান ক্যারিবীয়দের। মিস ফিল্ডিং, অতিরিক্ত রান ও শিমরন হেটমেয়ার ছাড়াও হোল্ডার জ্বলে উঠলে রান ৩২১ হয়ে যায়। বিশ্বকাপে এটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবীয়দের সর্বোচ্চ স্কোর।

ছোট মাঠ বলেই বাংলাদেশ আশাবাদী ছিল। আর উইকেটে বল ঠিকভাবে ব্যাটে আসছিল। তবে সারাদিনে একমাত্র শঙ্কা, মাশরাফি শেষের দিকে মাঠ ছেড়ে চলে যান। এটা আশঙ্কার।

মাশরাফি আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ব্যাটসম্যান কমিয়ে তিনি বোলার নেওয়ার বিপক্ষে। কথা রাখেন। রুবেল হোসেন এই দলে সুযোগ পাননি। আগের তিন ইনিংসে খারাপ খেলায় মোহাম্মদ মিঠুন বাদ পড়েছেন। লিটন দাসকে দলে নেওয়া হয়েছে। আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে শঙ্কা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাকে নিয়েই একাদশ সাজায়।

মেঘলা আবহাওয়া ও প্রচণ্ড বাতাসে মাশরাফি টস জিতে ফিল্ডিং নেন। অনেকে অবাক হয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশাল ব্যাটিং লাইনআপ। আটজন মূল ব্যাটসম্যান তাদের দলে। যাই হোক ক্রিস গেইলকে (০) দারুণ ডেলিভারিতে আউট করেন সাইফউদ্দিন। ১৩ বলে কোনো রান না করে ফেরত যান এ ভয়ঙ্কর ওপেনার। এভিন লুইস ও সাই হোপ দ্বিতীয় উইকেটে ১১৬ রানের জুটি উপহার দেন। এর পর চতুর্থ উইকেটে হোপ-হেটমেয়ার ৮৩ রান যোগ করিয়ে দেন। এর পর বড় জুটি না হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০০ পার করে ফেলে।

সাই হোপের প্রিয় প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। তবে এই যাত্রায় ১০০ করতে পারেননি। ৯৬ রানে ফেরেন। ৫ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নিয়ে দল সাজান ক্যারিবীয়রা। হোপ ও হেটমেয়ার বড় হুমকি ছিলেন। সাকিব ও মোস্তাফিজ ম্যাচটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙেন সাকিব।

এভিন লুইস ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন। ৭০ রানে সাকিবের বলে আউট হন। ২৬ বলে ৫০ রান করে ফেরেন হেটমেয়ার। হেটমেয়ারকে আউট করেন মোস্তাফিজ। আন্দ্রে রাসেলকেও মোস্তাফিজ আউট করে ম্যাচটি নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে দেননি। তবে শেষের দিকে জেসন হোল্ডার ১৫ বলে ৩৩ রান করে ক্যারিবীয়দের বড় স্কোরে পৌঁছে দেন। মোস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিন ৩টি করে উইকেট পান। সাকিব ৫৪ রানে ২টি উইকেট পেয়েছেন। মাশরাফি ৮ ওভারে ৩৭ রান দেন। কোনো উইকেট পাননি।

advertisement