advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ১ মাসের মধ্যে ধ্বংসের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন ২০১৯ ১৪:২৭ | আপডেট: ১৮ জুন ২০১৯ ১৪:৪০
advertisement

সারা দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, বিক্রি বন্ধ এবং ওষুধ প্রত্যাহার/ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ‍নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়। ‘ এ বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ১৭ জুন রিট করেন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন।  রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন, ‘রুলে ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণ বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়েছেন। ‘

এ ছাড়া স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপ পরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও মহাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

মাহফুজুর রহমান মিলন আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফার্মেসিতে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, সংরক্ষণ ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করতে পৃথক স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার একটি প্রতিবেদন আদালতে দিতে বলেছেন।     

এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপপরিচালকের মন্তব্যের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে ওই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপ পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  এ ছাড়া সারা দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার/ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ‍নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,  ‘ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয় বলে মন্তব্য করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। ১০ জুন সোমবার সকালে ফার্মগেটের খামারবাড়িতে আ কা মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী মিলনায়তনে ‘বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন,  ‘আমাদের নিয়মিত বাজার তদারকির গেল ৬ মাসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের প্রায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে।’