advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাফল্যের আরও পালক শোভিত হোক তোমাদের মুকুটে

১৯ জুন ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৯ জুন ২০১৯ ১০:০১
advertisement

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছে। এ রেকর্ড এসেছে বিশ্বকাপে যখন শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটির সঙ্গে বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা।

এ খেলায় যেভাবে দল জিতেছে তাতে বাংলাদেশকে বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবেই গণ্য করতে হবে। এ ম্যাচটিকে এক অর্থে আমাদের সেরা খেলোয়াড় আর বিশ্বক্রিকেটের দীর্ঘদিনের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ম্যাচও বলা যায়। তার দ্রুতলয়ের সেঞ্চুরি বা দুই উইকেট কেবল পরিসংখ্যানমাত্র, এতে তার সময়োচিত আগ্রাসী ব্যাটিং বা একতরফা ব্যাটিং পিচে দুরন্ত ঘূর্ণিবলের কার্যকারিতা উঠে আসে না। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট দলগত খেলাই।

এ ম্যাচে বিশেষভাবে বলতে হবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লিটন দাসের কথা। এটিই বিশ্বকাপে তার প্রথম ম্যাচ, অথচ কী অনায়াস স্বাচ্ছান্দ্যে এই তরুণ দেখিয়ে গেছে পেস ও বাউন্সারের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সেরা দৃষ্টান্ত। গেইল-রাসেলরাও যেন লিটনের কাছে পাঠ নিতে পারবে। গ্যাব্রিয়েলকে যেভাবে এক ওভারে পরপর তিন বলে ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়েছে তার সমকক্ষ মারমুখী ব্যাটিংয়ের দৃষ্টান্ত এবারের বিশ্বকাপ এখনো দেখাতে পারেনি।

তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট তো ১১ জনেরই খেলা। ধারাভাষ্যকাররাও বারবার প্রশংসা করছিলেন বাংলাদেশ দলের গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ের। ছোট মাঠে মারকুটে ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত উইন্ডিজ দল রানের পাহাড় গড়ে তুলবে সে আশঙ্কা বরাবরই ছিল। রান আরও হতো, কিন্তু আমাদের তরুণরা তুখোড় খেলে অনেক রান বাঁচিয়েছে, ক্যাচ ছাড়েনি একটিও। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল সম্ভবত ৩২১ রান তুলে নিশ্চিন্ত ছিল। ভেবেছিল এত রানের চাপ আর তাদের বোলারদের গতি ও বাউন্সে খেই হারাবেই বাংলাদেশ। কিন্তু তেমনটা হয়নি, হতে পারেনি।

আমাদের তরুণরা ঠা-া মাথায় পরিস্থিতি অনুযায়ীই খেলেছে। অভিজ্ঞ তামিম ও মুশফিকের পরপর আউটের পরও কেউই ঘাবড়ে যায়নি। অবশ্যই পুনরুক্তি করে বলতে হবে, মাঠে বাইশ গজে সাকিব আল হাসানের অনবদ্য পারফরম্যান্স কোনো আশঙ্কাকেই ডালপালা মেলতে দেয়নি। পাঁচ খেলায় পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন পঞ্চম স্থানে। পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ চারটি দলই যাবে সেমিফাইনালে, সেখানে স্থান পাওয়া বাংলাদেশ দলেরও লক্ষ্য।

বাংলাদেশের আর যে চারটি খেলা বাকি আছে তার তিনটিই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ-অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। আফগানিস্তানকে নিয়ে হয়তো বাংলাদেশ ততটা ভাবছে না। যেভাবে এ পর্যন্ত খেলেছে দল তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায় মাথা ঠা-া রেখে খেলোয়াড়রা নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে নিজেদের দিনে তারা যে কোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখে। তিনটি দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। কিন্তু সোমবার তো বাংলাদেশ হারিয়েছে প্রথম দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকেই।

সোমবারের খেলা দেখে দেশের সব ক্রীড়ামোদী মানুষ ভীষণ সন্তুষ্ট। তারা জানে তাদের দল আজ বিশ্বের যে কোনো দলকে হারাতে সক্ষম। তাদের বিশ্বের প্রথম সারির দলের মধ্যেই গণ্য করতে হবে। চ্যাম্পিয়ন বা ফাইনালিস্ট কিংবা সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য পূরণ না হলেও দলের খেলায় দেশবাসী তৃপ্ত, সন্তুষ্ট। বাহবা বাংলাদেশ দল, তোমাদের মাথার মুকুটে সাফল্যের আরও পালক শোভিত হোক।