advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘাতকদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

১৯ জুন ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৯ জুন ২০১৯ ১০:০২
advertisement

অবশেষে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গত সোমবার দুপুরে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নুসরাত জাহান রাফি থানায় গিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ জানানোর সময় তা ভিডিওতে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় ওসিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় পরোয়ানা জারির পর ২০ দিন পলাতক ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহানের মৃত্যু কাঁদিয়েছে গোটা বাংলাদেশকে। নুসরাত হত্যার আগে ধারণ করা একটি ভিডিওচিত্র তার হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। একটি ভিডিওচিত্রে নুসরাতের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার কথোপকথনে স্পষ্ট হয়েছিল, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে হত্যার নির্দেশদাতা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার পক্ষের লোক। পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটির তদন্তেও সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

মূলত বাংলাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কোনো সদস্য কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হলে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সচেতনভাবে এড়িয়ে গেলে কিংবা অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, এমন দৃষ্টান্ত অত্যন্ত বিরল।

যাই হোক শেষ পর্যন্ত ওসিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রয়োজন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তরিক সক্রিয়তা। কোনো কিছুর বিনিময়ে এমন নুসরাতদের আর ফিরে পাওয়া যাবে না, তবে তার হত্যার বিচার হলে নুসরাতের স্বজনরা অন্তত এই সান্ত্বনাটুকু পাবেন যে অপরাধীরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

সেই সঙ্গে অপরাধীর কাছে এই বার্তাও যাবে যে, অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। বিচারহীনতার অবসান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেলে নারী নির্যাতন অনেকাংশে কমে আসবে। আমরা প্রতিটি নারী নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।

advertisement