advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আগামীর টাইগার

এমি জান্নাত
১৯ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ জুন ২০১৯ ০১:১২
advertisement

সারা বিশ্বে চলছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উন্মাদনা। দেশের ঘরে ঘরে শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ পর্যন্ত সবাই মেতে উঠেছেন সেই আমেজে। সবার আগ্রহ এখন টিভির পর্দায় ইংল্যান্ডের খেলার মাঠে। আর বাংলাদেশকে ঘিরে সবার চোখেমুখে আশার আলো। তরুণদের পাশাপাশি ছোটদেরও যেন উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে। বিশ্বকাপ বিষয়ে আগামী প্রজন্মের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন এমি জান্নাত

কারো কারো ধারণা, আজকাল শিশুদের মধ্যে দেশাত্মবোধ নেই, ভাবনার গভীরতা নেই। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে শিশুদের উত্তেজনাই বলে দেয় সেই ধারণা কতটা ভুল। প্রতিটি ঘরে তো আছেই, পথশিশুদের মধ্যেও খেলার প্রতি এই আগ্রহ অবাক করার মতো। যেদিন বাংলাদেশের খেলা থাকে, সেদিন চায়ের দোকান, মাঠ, রাস্তায় খেলা দেখার ধুম পড়ে যায়। বড় স্ক্রিনে দেখানো হয় খেলা। আর সেখানে অংশ নেয় পথশিশুরাও। তেমনি এক পথশিশু রাকিবের কাছে জানতে চাই খেলা নিয়ে তার ভাবনার কথা। তার বয়স ১২ বা ১৩ হবে। সে বলে ক্রিকেট তার খুব প্রিয় খেলা। খুব ছোটবেলা থেকেই ধানম-ি লেকের আশপাশের রাস্তায় থাকে আর যখনই খেলা হয়, তখনই সব বাদ দিয়ে খেলা দেখে সে। সবার মতো মাশরাফি তার প্রিয় খেলোয়াড়। রাকিব বলে, ‘আমার তো সুযোগ নাই, থাকলে আমিও খেলতাম। অনেক বড় খেলোয়াড় হইতাম। এখন খালি বন্ধুদের সাথে খেলি। বাংলাদেশ একদিন কাপ আনবো দেইখেন!’

লেকের পাশেই আরেকটি ১০-১২ বছরের ছেলে হেঁটে যাচ্ছিল তার বাবার সঙ্গে। তার পরনে বাংলাদেশের জার্সি। তাই তাদের কাছে একটু সময় নিলাম ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে। ছেলেটির নাম রাফাত। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু খেলা নিয়ে কত কিছু জানে সে! নিজ দেশের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নাম তো বটেই, অন্য দেশের ভালো খেলোয়াড়দের নামও জানে। এমনকি কে কীভাবে বল করে, কীভাবে খেললে চার-ছক্কা হয়, খুব উৎসাহের সঙ্গে বলে সে। ‘আমি প্রতিটি ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখি। আর এটাও বলে, বড় হয়ে আমি ক্রিকেটার হব। সাকিব আল হাসানের মতো অলরাউন্ডার হব।’ বাবাকে রাজি করিয়েছি আমাকে বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়ে দিতে। বইয়ের চাইতে যেন খেলার মাঠই তার খুব কাছের। রাফাতের কথায় সায় দিয়ে ওর বাবা বলেন, ছেলের আগ্রহ দেখে তারাও উদ্যোগ নিয়েছেন যেন বিকেএসপিতে ভর্তি করাতে পারেন। পড়াশোনার পাশাপাশি যেন ক্রিকেটটা চর্চা করতে পারে সে। উল্লেখ্য, ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) দেশের প্রধান ও একমাত্র সরকারি ক্রীড়া শিক্ষাকেন্দ্র। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের বাছাইয়ের মাধ্যমে এখানে ভর্তি নেওয়া হয়।

শিশুদের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে তার যদি খেলাধুলায় বেশি ঝোঁক থাকে, তবে সেই প্রশিক্ষণের সুযোগ তাকে দেওয়া উচিত।

যেসব শিশু খেলাধুলায় আগ্রহী তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। যেমন শেখ জামাল ক্রিকেট একাডেমি, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র, আবাহনী ক্রিকেট ক্লাব ইত্যাদি।

খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ পেলে পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুর শখের জায়গাটা যেমন পূরণ হয়, তেমনি সে বিশ্বকে চিনতে শেখে। আর শিশুর জন্য সুস্থ বিনোদনের পরিবেশও তৈরি হয়। তাই বিশ্বকাপ, বিপিএল, আইপিএল ছাড়াও যে কোনো খেলার প্রতি শিশুর আগ্রহকে গুরুত্ব দিন। হতে পারে, এটাই তার সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেবে।