advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বালিশকাণ্ডের দায় নেবে না বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ জুন ২০১৯ ০৮:৪১
advertisement

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেনকাটায় দুর্নীতির দায় নিতে নারাজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সংসদ ভবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বালিশকাণ্ডের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কমিটির একজন বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য মন্ত্রী ও সচিবকে অনুরোধ করেন।

তবে মন্ত্রী ও সচিব বলেছেন, এর দায় তাদের নয়। যেহেতু কাজটি করছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, তাই দায় তাদেরই নিতে হবে। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সরকারদলীয় এমপি ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। সবাই অখুশি। মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। তারা বলেছে, যেহেতু কাজ দিয়েছি অন্য একটা মন্ত্রণালয়কে, তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার আগে এর দায় তাদেরই নিতে হবে।’ তা হলে কি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দায়ী? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী ও সচিবের কথা অনুযায়ী তো তা-ই হয়। তবে আমরা বলেছি বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার করতে। এর সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি জড়িত।’

বৈঠক সূত্র জানায়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেনাকাটায় দুর্নীতি বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্য হাবিবে মিল্লাত বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, ‘একটি বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা কীভাবে হয়?’ কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হক এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনের কাছে ব্যাখ্যা চান।

মন্ত্রী তখন বলেন, ‘এটা নিয়ে বসে থাকলে তো চলবে না, আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলেও অবকাঠামো ও প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পিডব্লিউডির মাধ্যমে। ফলে সেখানে তদারকি করার অধিকার আমাদের নেই। এ সময় কমিটিকে আরও জানানো হয়, প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে আদালতে দুটি মামলা হয়েছে। আদালতের রায় পেলেও তা বাস্তবায়ন করা হবে। বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ইকবালুর রহিম, মোজাফ্ফর হোসেন, শিরীন আহমেদ, সেলিমা আহমাদ ও হাবিবা রহমান খান। বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

advertisement