advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্বামী শ্বশুর শাশুড়ি ও ননদ রিমান্ডে

নরসিংদী প্রতিনিধি
২০ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ জুন ২০১৯ ০৯:৩৬
advertisement

মাদককারবারে জড়িত না হওয়ায় নরসিংদীর গৃহবধূ জান্নাতিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় নিহতের স্বামী ও শাশুড়িসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নাটোর জেলার নারায়ণপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল দুপুরে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক নিহতের স্বামীর চার দিন ও বাকি তিন আসামির দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিরাজউদ্দিন আহম্মেদ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-নিহত জান্নাতির শাশুড়ি মাদককারবারি শান্তি বেগম ওরফে ফেনসি রানী (৪৫), স্বামী সাব্বির আহামেদ শিপলু ওরফে শিবু (২৩), ননদ ফাল্গুনী বেগম (২০) ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া (৫০)। তারা সবাই নরসিংদীর চরহাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা। এসপি মিরাজউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পারিবারিক মাদককারবারে সম্পৃক্ত না করায় জান্নাতুল ফেরদৌসি ওরফে জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় গত ১৫ জুন নিহতের বাবা শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, পুলিশ ও ডিবির একটি দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, গাজীপুরের টঙ্গী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে না পেয়ে নাটোরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে আসামিদের গতকাল দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনা আক্তারের আদালতে হাজির করা হয়। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। বিচারক নিহত জান্নাতির স্বামী শিপলু মিয়ার চার দিন ও বাকি তিন আসামির দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে জান্নাতি আক্তারের (১৬) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেম হয়। পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিন পরই পারিবারিক মাদককারবারে সম্পৃক্ত করতে শাশুড়ি ও স্বামী জান্নাতিকে চাপ দিতে থাকে। এতে রাজি না হলে তার ওপর নেমে আসে কঠোর নির্যাতন। যৌতুকের টাকা না দেওয়াসহ মাদককারবারে জড়িত না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আসামিরা জান্নাতির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যু যন্ত্রণার পর গত ৩০ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

২৫ এপ্রিল নিহতের দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাশুড়িসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ ৫১ দিন তদন্ত শেষে হত্যার সঙ্গে জান্নাতির স্বামী ও শাশুড়ি জড়িত উল্লেখ করে গত রবিবার দুপুরে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

advertisement